ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মেসির সাফল্যের চাবিকাঠি গোপন অনুশীলন 

মেসির সাফল্যের চাবিকাঠি গোপন অনুশীলন 
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১০:৫৮ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৪

গোপনীয়তার সিন্ধুকের চাবিটা কোনো এক গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। এক বছর ধরে করা তাঁর নিবিড় অনুশীলনের একটি ছবিও তাই প্রকাশ পায়নি ধরায়। কিংবদন্তির গোপনীয়তার কৌশলের কাছে হেরে গেছেন পাপারাজ্জিরাও। মেসি দেখিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমের এই যুগেও নিজেকে লুকানো যায়। এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র আর আর্জেন্টিনায় করা বিশ্বকাপের জন্য তাঁর নিবিড় অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের একটি ছবিও পোস্ট হয়নি ইনস্টাগ্রামে। এতদিন তাই রহস্য হয়েই থেকেছে মেসির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর নিজেকে খোলাসা না করলে বিশ্বকাপে ভালো খেলার পেছনের গল্প জানা হতো না।

লিওর সব কিছুই ছকে মাপা। ফুটবল মাঠে জায়গা নেওয়ার মতো সঠিক সময়ে সঠিক কাজটাই করেন তিনি। ২০২৩ সালে ইউরোপ ছেড়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেওয়া তাঁর। কম পরিশ্রমেও বেশি খেলার কৌশলটা ভালোই কাজে লাগান যুক্তরাষ্ট্রের লিগে। মায়ামিতে খেলার সময়ই মেসি বুঝে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপে ভালো করার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে তাঁকে। কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে বসে প্রস্তুতির ছক সাজান তিনি। লিগের খেলা থাকায় প্রস্তুতির বেশির ভাগ সারতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

মেসি জানান, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পরিকল্পিত অনুশীলন করেছেন বিশ্বকাপ ভেন্যুতে। ডিসেম্বরেও প্রস্তুতির জন্য ছিলেন আর্জেন্টিনায়। প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন মেসি, ‘আমি গত বছর পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি (বিশ্বকাপে খেলা, না খেলা নিয়ে)। তবে স্কালোনির সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেছি। আমি সেরা অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করেছি।’ নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পুরো এক বছর আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম এবং নিয়মিত অনুশীলন করেছি। এমনকি আমি ডিসেম্বর মাসও আর্জেন্টিনায় কাটিয়েছি। সকাল-সন্ধ্যা অনুশীলন করেছি। আমি চেয়েছি সেরা প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে।’

মেসি তাঁর ৪০তম জন্মদিনের কেক কেটেছেন বিশ্বকাপ ভেন্যুতে। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে টানা ম্যাচ খেলা ভীষণ ধকলের। কতটা ফিট থাকলে গ্রহের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে শেষ বিশ্বকাপেও উজাড় করে খেলছেন। এই বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে ৭১২ মিনিট মাঠে ছিলেন মেসি। ১১ ঘণ্টা ৫২ মিনিট ম্যাচ খেলা সত্যিই কঠিন। সেখানে এই বয়সেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড় তিনি। ৮টি গোল ও চারটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে জোরালো করেছেন গোল্ডেন বুটের দাবি। আগামীকাল রোববার মেগা ফাইনালে গোল করলে ইতিহাস হবে তাঁর। তবে ৮টি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল্ডের বুট জয়ের দৌড়ে পাল্লা দিচ্ছেন মেসির সঙ্গে। আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে একাধিক গোল করে ফ্রান্সকে জেতাতে পারলে এমবাপ্পেও পেতে পারেন গোল্ডেন বুট। গোল্ডেন বলের সঙ্গে গোল্ডেন বুট জিততে হলে মেসিকে ফাইনালে গোল করতে হবে। আর্জেন্টাইন মহাতারকা ব্যক্তিগত ডাবল জিততে পারবেন কিনা, তা পরিষ্কার বোঝা যাবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষ হলে। মেসির ফিটনেস এতটাই ভালো যে বেশির ভাগ ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। ১২০ মিনিট খেলার রেকর্ড গড়েছেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এ।

মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাস ও রেকর্ড নতুন করে লিখছেন তিনি। মিরোস্লাভ ক্লোসা ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। ২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন ছয়টি বিশ্বকাপে। তাঁর ছয় বিশ্বকাপের তৃতীয়বার ফাইনাল খেলছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১৪ সালে রানার্সআপ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠায় এবারও নিশ্চিত হয়ে গেছে রানার্সআপ ট্রফি। আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকায়ও দুই শিরোপা জিতেছে তাঁর নেতৃত্বে। রোববারও বাজিমাত করার নেশায় বুঁদ হবেন ফুটবলের খুদে জাদুকর। 

আরও পড়ুন

×