ইয়ামালের সুরক্ষা চায় স্পেন
নাজমুল হক নোবেল
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩৪
‘আপনাদের কী সত্যিই মনে হয়, রেফারি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল পরিচালনা করার মতো যোগ্য ছিলেন?’ ডালাসে প্রথম সেমিতে স্পেনের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছিলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। উত্তরের অপেক্ষা না করে তিনি তৎক্ষণাৎ আরও বলেছিলেন, ‘এটা কোনো অভিযোগ নয়, প্রশ্ন।’ সেমির রেফারির ওপর আরও বেশি বিরক্ত ছিলেন বিজয়ী দল স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর দাবি, লামিনে ইয়ামাল অসংখ্য ফাউলের শিকার হলেও রেফারি খুব কমই বাঁশি বাজিয়েছেন, অধিকাংশই এড়িয়ে গেছেন। ১৯ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ডের সুরক্ষা চেয়েছেন ফুয়েন্তে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিতে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ইয়ামাল বেশ কয়েকবার পরিষ্কার ফাউলের শিকার হলেও রেফারি বাঁশি বাজাননি, খেলা চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ স্পেন কোচের। অবশ্য এবারের পুরো বিশ্বকাপেই স্পেনের এ তারকার সঙ্গে এমনটা হয়েছে। তারকা এ উইঙ্গার এখন পর্যন্ত মোট ৪০৪ মিনিট খেলেছেন। এর মধ্যে ফাউলের শিকার হয়েছেন মাত্র আটবার। যার মানে প্রতি ৫০ মিনিটে তিনি একবার ফাউলের শিকার হয়েছেন। এবারের আসরে আক্রমণভাগে খেলা তারকাদের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন ফাউলের বাঁশি বাজানো। এ তালিকায় শীর্ষে আছেন জেরেমি ডোকু। বেলজিয়ামের এ উইঙ্গার ৩৪১ মিনিট খেলে ১৮ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন। জুড বেলিংহামও ১৮ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন। ইংলিশ এ মিডফিল্ডার অবশ্য ডোকুর চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছেন। ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে ১৬টি, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ১৬টি, মিসরের মোহামেদ সালাহ ১৩টি, জার্মানির জামাল মুসিয়ালা ১১টি ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ১০টি ফাউলের শিকার হয়েছেন।
মজার বিষয় হলো বেশি ফাউল করেছেন, এমন খেলোয়াড়দের তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন ইয়ামাল। স্প্যানিশ এ তারকা এখন পর্যন্ত ১২টি ফাউল করেছেন। ১৫টি ফাউল করে মরক্কোর নিল এল আয়নাউয়ি এ তালিকার শীর্ষে আছেন। প্যারাগুয়ের কুবাস ১৪টি ও জার্মানির পাভলোভিচ ১৩টি ফাউল করেছেন। এ তালিকায় ইয়ামাল ছাড়া বাকি তিনজনই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। আর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে ডোকু ৪টি, মেসি ২টি, মুসিয়ালা ৫টি ও ভিনিসিয়ুস ৪টি ফাউল করেছেন। এমনকি সেমিতে ইয়ামালকে ফাউল করে স্পেনকে পেনাল্টি দেওয়া লেফটব্যাক লুকাস দিনিয়েও মাত্র ৫টি ফাউল করেছেন। ফাউল করার এই হিসাব ধরলে ইয়ামাল হলেন স্পেনের সবচেয়ে বিধ্বংসী ফুটবলার। স্পেনের ফুটবলারদের মধ্যে যাঁর দায়িত্ব প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের আটকানো, সেই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি ফাউল করেছেন ৯টি। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন ইয়ামাল এত ফাউল করছেন? এক স্প্যানিশ সাংবাদিক এর জবাব দিয়েছেন, ইয়ামাল একটু বেশি ড্রিবল করেন বলে তাঁকে আটকাতে বাড়তি মনোযোগ দেয় প্রতিপক্ষ। তখন আঘাত করে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আঘাতের পর আঘাত করা হলেও রেফারি বাঁশি না বাজানোয় ইয়ামাল মাথা গরম করে ফেলেন। তখন তিনি আগ্রাসী হয়ে পাল্টা ফাউল করে বসেন। এতে করে ইয়ামালের কার্ড পাওয়ার শঙ্কা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে চোটে পড়ার শঙ্কাও।
প্রতিপক্ষের এই আঘাতের প্রভাব ইয়ামালের ওপর ভালো মতোই পড়ছে। এই যেমন ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমি জেতার এক দিন পর অনুশীলনে নেমেছিল স্পেন। কিন্তু মাঠে গেলেও সবার সঙ্গে অনুশীলন করেননি ইয়ামাল। বাঁ ঊরুতে একটি ব্যান্ড বেঁধে অধিকাংশ সময় মাঠে বসেই কাটিয়েছেন তিনি। কেবল হালকা গা গরম করেছেন। তারকা এ ফরোয়ার্ডকে এভাবে বিশ্রামের মেজাজে থাকতে দেখে অনেকেই তাঁর চোটের বিষয়ে খোঁজখবর করতে শুরু করেছিলেন। তবে স্পেনের কোচ জানিয়েছেন, ইয়ামালের খেলা নিয়ে শঙ্কা নেই। ফাইনালে তাঁকে পুরোপুরি তরতাজা অবস্থায় পাওয়ার জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- স্পেন
- লামিন ইয়ামাল
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬