বিশ্বকাপ ফাইনালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, কেন এত কড়াকড়ি?
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ২০:০০
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে আকাশ, স্থল এবং স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে গড়ে তোলা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। আয়োজকদের দাবি, প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান বা সুপার বোলের মতো উচ্চঝুঁকির আয়োজনের চেয়েও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক বেশি কঠোর।
মার্কিন সরকার এই ম্যাচকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেবল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চঝুঁকির জাতীয় আয়োজনগুলোকেই এই মর্যাদা দেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, সিক্রেট সার্ভিস, স্থানীয় পুলিশ এবং একাধিক ফেডারেল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবাদ, ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ এবং জননিরাপত্তাসহ নানা ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
স্টেডিয়াম ও এর আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টার। এছাড়া বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের কৌশলগত অবস্থানে রয়েছেন স্নাইপার টিম এবং বিশেষ অস্ত্রধারী সদস্যরা। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিস্ফোরক শনাক্তে প্রশিক্ষিত ৩০০টি বিশেষ কুকুরও দায়িত্ব পালন করছে। শুধু স্টেডিয়াম নয়, খেলোয়াড়দের হোটেল, অনুশীলন কেন্দ্র এবং ফ্যান জোনেও ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে এসব ইউনিট।
কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে স্টেডিয়ামে প্রবেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তাই হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি দর্শকদের ম্যাচ শুরুর অন্তত চার ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল
- ফাইনাল
- স্পেন
- আর্জেন্টিনা