সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে নীরবতা ভাঙলেন ইয়ামালের প্রেমিকা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | ১৭:০১
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক শিরোপা জেতে স্পেন। নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের সেই আনন্দঘন মুহূর্তে স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের পাশে মাঠে উপস্থিত ছিলেন তার প্রেমিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইনেস গার্সিয়া। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই কিছু ভিডিও ও ছবিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে তাকে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ও ছবির ভিত্তিতে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, উদযাপনের সময় ইয়ামাল ও ইনেস গার্সিয়ার মধ্যে স্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়নি। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলতে শুরু করেন, তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে। এরপর থেকে ইনেসের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা শুরু হয়, যেখানে তাকে অপমান ও মানসিক হেনস্তার মুখোমুখি হতে হয়।
_1785063657.jpg)
এসবের জবাবে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইনেস গার্সিয়া নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে আমাকে নিয়ে করা মন্তব্যগুলো পড়ছি। শক্ত থাকার চেষ্টা করি, কিন্তু দিনশেষে আমিও একজন মানুষ। আমারও অনুভূতি আছে, আমিও মানুষ, আমিও কাঁদি।’ তিনি বলেন, কোনো পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে থাকলেই একজন মানুষ তার অনুভূতি হারিয়ে ফেলেন না।
মানুষকে আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনেস লেখেন, ‘কোনো মন্তব্য করার আগে মনে রাখবেন, পর্দার ওপাশেও একজন মানুষ আছে। তার পরিবার আছে, বন্ধু আছে, ভয় আছে, অনুভূতি আছে। আপনার একটি মন্তব্য তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আপনি জানেন না।’
বার্তার শেষ অংশে আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমিও অনুভূতিসম্পন্ন একজন নারী। আমার পরিবারও এসব মন্তব্য পড়ে। অন্য সবার মতো আমারও ভালো ও খারাপ দিন আসে। আমি কাউকে বলছি না যে আমাকে ভালোবাসতেই হবে। শুধু সামান্য সহমর্মিতা আর মানবিকতা চাই। কারণ হাজার হাজার ঘৃণামূলক বার্তা পাওয়ার যোগ্য কেউ নয়।’
নিজের বক্তব্যে ইনেস বলেন, তিনি কখনো কারও ক্ষতি করার চেষ্টা করেননি। তার ভাষ্যে, ‘আমি লামিন ইয়ামাল বা অন্য কারও কোনো ক্ষতি করিনি। আমি কারও কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিইনি। আমি শুধু নিজের মতো করে জীবনযাপন করছি।’
শেষে ইনেস আশা প্রকাশ করেন, একদিন ইন্টারনেট এমন একটি জায়গায় পরিণত হবে, যেখানে নিষ্ঠুরতাকে আর উৎসাহ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তার একমাত্র উদ্দেশ্য নিজের জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়া, কাউকে আঘাত করা নয়। বার্তার শেষ লাইনে তিনি লেখেন, ‘আমরা সবাই নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। আশা করি, আমরা সবসময় ঘৃণার বদলে সহমর্মিতাকেই বেছে নেব।’
- বিষয় :
- লামিন ইয়ামাল
- স্পেন