ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ পরিকল্পনায় উয়েফার পর কনকাকাফও ফিফার বিপক্ষে

বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ পরিকল্পনায় উয়েফার পর কনকাকাফও ফিফার বিপক্ষে
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০২:৩৫

ফিফার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পর এবার উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সংস্থা কনকাকাফও ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার উয়েফা জানায়, ফিফা প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের ৫৫টি সদস্যদেশ বিশ্বকাপসহ ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মতো শক্তিশালী দলগুলো পুরুষ ও নারী- দুই বিশ্বকাপ থেকেই বাইরে থাকবে।

এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ‘উয়েফা ও এর সদস্য জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলো ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।’

বৈঠক শেষে একই অবস্থান নেয় কনকাকাফ। ৪১ সদস্যের এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, তারা কনকাকাফ ও এর সদস্যদের অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম।

সম্প্রতি ইনফান্তিনো ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ এ অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ফিফা। বিনিময়ে বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক অধিকারসহ ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের বিভিন্ন আয়সংক্রান্ত বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগের অর্থায়নে যুক্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ফিফার ২১১ সদস্য সংস্থা প্রত্যেকে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ পেতে পারে। প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কার্যকর করতে প্রয়োজন হবে সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন।

তবে উয়েফার অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রস্তাব আনার আগে সদস্যদের সঙ্গে অর্থবহ কোনো পরামর্শ করা হয়নি। সংস্থাটির ভাষ্য, এটি শুধু নেতৃত্বের ব্যর্থতাই নয়, বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারও প্রমাণ।

বিবৃতিতে উয়েফা আরও বলেছে, ‘কিছু বিষয় কখনো বিক্রির জন্য নয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ। এটি সব সময় ফুটবলেরই থাকবে। ইউরোপের কণ্ঠস্বর যত দিন থাকবে, বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য তত দিন উন্মুক্ত হবে না।’

কনকাকাফও প্রস্তাবটি নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং ফিফার সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলোর অনুমোদন না নেওয়া- এসব বিষয় সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে ফিফার কাউন্সিলে থাকা কনকাকাফের প্রতিনিধিদের বিদ্যমান তহবিল ব্যবহার করে ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে অর্থ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থান ইনফান্তিনোর ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। তিনটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মুখে তার ১১ বছরের নেতৃত্বও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। আগামী বছরের মার্চে মরক্কোর রাবাতে ফিফা সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন

×