ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেস বোলার থেকে জ্যাভলিন থ্রোয়ার, কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয়

পেস বোলার থেকে জ্যাভলিন থ্রোয়ার, কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয়
×

রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগে। ছবি: এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:১১ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:০২

হতে পারতেন মালিঙ্গা-পাথিরানাদের মতো ক্রিকেটের সফল পেসার। খেলেওছিলেন শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের বিভিন্ন দলে। ঘণ্টায় ১৩৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সেই ষোলো বছর বয়সেই। কিন্তু তাঁর কোচ টনি প্রসন্ন ছাত্রের মধ্যে অন্য কিছু খুঁজে পান। তাঁর বল থ্রোর ধরন, গতি, ক্ষিপ্রতা– সব মিলিয়ে কোচ প্রসন্ন তাঁকে পরামর্শ দেন অ্যাথলেটিকসের বর্শা নিক্ষেপ ডিসিপ্লিনে মনোযোগ দেওয়ার। কোচের কথা শুনেই এরপর ক্রিকেটের বল ছেড়ে হাতে তুলে নেন জ্যাভলিন থ্রোর বর্শা। আর মাত্র সাত বছরের মধ্যেই সাফল্যের সব মুকুট ধরা দিতে থাকে রুমেশ থারাঙ্গা পাথিরাগের মাথায়।

শুক্রবার গ্লাসগোর স্কটস্টন স্টেডিয়ামে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের চমকে দিয়ে শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম জ্যাভলিন স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নেন পাথিরাগে। ভারতের অলিম্পিকজয়ী নীরজ চোপড়া ও পাকিস্তানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আরশাদ নাদিমের পর শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগের এই সাফল্য এ অঞ্চলে জ্যাভলিনের জয়জয়কার আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ক্রিকেটই দক্ষিণ এশিয়ায় ‘বর্শা বিপ্লব’ এনে দিয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপিয়ানদের দখলে থাকা জ্যাভলিন থ্রোতে দক্ষিণ এশিয়ার এই ত্রিমুখী আধিপত্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির কারণে এ অঞ্চলের তরুণদের কাঁধ, কোমর ও কবজির শক্তি প্রাকৃতিকভাবেই শক্তিশালী থাকে, যা জ্যাভলিনে বাড়তি সুবিধা দেয়। রুমেশ নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্রিকেটের বোলিং অ্যাকশন ও জ্যাভলিনের রিলিজ কৌশলের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও বল করার সময় তৈরি হওয়া শারীরিক গতি ও জোর তাঁকে বর্শা নিক্ষেপে দারুণ সহায়তা করেছে।

ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডিল সুমারিভিলা মনে করেন, জ্যাভলিন থ্রোতে দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনা দিন দিন আরও বাড়বে। ‘কয়েক দশক ধরে জ্যাভলিন থ্রো মূলত ইউরোপীয় অ্যাথলেটদের দখলেই ছিল। আজ দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাথলেটরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন, বিশ্বসেরাদের কাতারে তাঁদেরও স্থান রয়েছে। পাকিস্তান আরশাদ নাদিমের মতো একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন তৈরি করেছে, ভারতের রয়েছে নীরজ চোপড়া এবং এখন শ্রীলঙ্কারও এমন একজন অ্যাথলেট আছে, যিনি ৯২ মিটার অতিক্রম করতে সক্ষম। এটি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় বিজয়।’ জুনে রোমে ডায়মন্ড লিগে প্রথম হওয়ার পর পাথিরাগেকে নিয়ে এমনটাই উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিলেন সুমারিভিলা। গতকাল শনিবার কুমার সাঙ্গাকারার মতো লঙ্কার সাবেক ক্রিকেটারও পাথিরাগের এই স্বর্ণজয়কে লঙ্কার ‘গর্বের দিন’ হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।

পাথিরাগের মতো ভারতের নীরজ চোপড়াও একসময় পেস বোলার ছিলেন। পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমও ক্রিকেট খেলতেন। সুমারিভিলার মতে, ক্রিকেটই হয়তো জ্যাভলিন থ্রোর শুরুটা করে দিতে পারে। ‘গতিময় বোলিং হয়তো জ্যাভলিনের শারীরিক সক্ষমতা জোগাতে পারে, কিন্তু জ্যাভলিন থ্রো মূলত কৌশলগত একটি ইভেন্ট। ৯০ মিটারের বেশি দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করতে বছরের পর বছর বিশেষায়িত কোচিং ও কৌশলগত সূক্ষ্মতা, শারীরিক শক্তির বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।’ পাথিরাগে সেটাই করেছিলেন গত সাত বছরে। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের তীব্র বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ৮৯.৭৫ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে কমনওয়েলথ গেমসে শ্রীলঙ্কার প্রথম স্বর্ণপদক। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ভারতের নীরজ চোপড়া ৮৫.৮৩ মিটার থ্রো করে রৌপ্য পদক পান। ভারতেরই যশ বীর সিং ৮৫.৪১ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ নিজের নামে করেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম ৭৭.৪১ মিটার থ্রো করে নবম স্থানে থেকেই প্রতিযোগিতা শেষ করেন।

রুমেশ জানান, তাঁর এই সাফল্যের পর শ্রীলঙ্কার তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু ক্রিকেট নয়, হাত বাড়াচ্ছে জ্যাভলিনসহ অন্যান্য খেলায়।

আরও পড়ুন

×