ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাইগারদের আশা দেখাচ্ছে নাগপুরের উইকেট

টাইগারদের আশা দেখাচ্ছে নাগপুরের উইকেট
×

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচের আগের দিন নাগপুরে অনুশীলনে মাহমুদুল্লাহ-মুস্তাফিজ। ছবি: বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৫:০৭

দলের অধিনায়ক কিংবা কোচ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেই দলের সমন্বয়, পরিবর্তন নিয়ে অবধারিত প্রশ্ন থাকে। উইকেট কেমন সেটা নিয়েও দিতে হয় ব্যাখ্যা। নাগপুরে সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচের আগে শনিবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকেও শুনতে হলো প্রশ্নগুলো। দলের ক্রিকেটারদের ভালো খারাপ নিয়ে, উইকেট নিয়ে কথা বললেন তিনি।

দিল্লিতে সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। রাজকোটে সিরিজ জয়ে চোখ ছিল মাহমুদুল্লাহদের। কিন্তু বাংলাদেশের জয়ের মোমেন্টাম ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন রোহিত শর্মারা। সিরিজে ভারত এখন বেশি নির্ভার। তবে ভারতের মাটিতে প্রথম সিরিজি জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়নি টাইগারদের। রোববার সিরিজের শেষ ম্যাচে জিতলেই ইতিহাস হয়ে যাবে বাংলাদেশের।

নাগপুরের উইকেটও দেখাচ্ছে সেই আশা। এখানকার উইকেট স্পিন সহায়ক হয়। রান ওঠে বেশ কম। আর টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ কোন পরাশক্তি নয়। ছোট লক্ষ্য হলে, উইকেট বোলিং সহায়ক হলে তাই দলের জয়ের সম্ভবনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ দলে বড় হার্ড হিটার না থাকায় দুইশ'র আশপাশে রান করা বা ওই রান তাড়া করে জেতা কঠিন। নাগপুরের উইকেটে তাই জয়ের সুযোগ দেখছেন কি-না কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে এমন প্রশ্ন করেন ভারতীয় সাংবাদিকরা।

কোচ জানান, অবশ্যই এটাকে তিনি এবং তার দল বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। সুযোগটাও তারা নিতে চান। বলেন, 'কম রানের উইকেট হলে আমাদের ক্রিকেটাররা সহজে লড়াই করতে পারে।' কোচের কথায় যুক্তি আছে। কঠিন উইকেট হোক কিংবা সহজ বাংলাদেশের রানের চাকা যেন ১৫০ এর ঘরেই বাধা। দিল্লির কঠিন উইকেটে দেড়শ ছোঁয়া রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। আবার রাজকোটের ব্যাটিং স্বর্গে দেড়শ'র আশে-পাশেই থেমেছে।

নাগপুরে সর্বশেষ চারটি টি-২০ ম্যাচের একটিতেও প্রথমে ব্যাট করা দল দেড়শ' রান করতে পারেনি। ভারতের কঠিন উইকেটগুলোর একটি ধরা হয় নাগপুরের বিধোরবা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামকে। এখানে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ টি-২০ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান তোলে।  জবাবে নামা ইংল্যান্ড ৫ রানে হারে। ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার টেনে আফগানিস্তান ১২৭ রান তুলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ রানে জেতে।

নাগপুরে টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার টেনের অন্য ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১২২ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় তুলে নেয় ৩ উইকেটে। সুপার টেনেরই অন্য এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১২৬ রান। ভারত মাত্র ৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ওয়ানডে ক্রিকেটেও এই স্টেডিয়াম খুব একটা রানের পসরা খুলে বসেনি। শেষ তিন ম্যাচেই এখানে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুই ম্যাচে আড়াশ' পার করতে পারেনি কোন দল। ২০১৩ সালের এক ম্যাচে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার ৩৫০ রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় ভারত।

নাগপুরে উল্লেখিত আগের চার টি-২০ ম্যাচে দু'দল মিলে উইকেট হারিয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে ২৬ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররা। আটজন ব্যাটসম্যান রান আউটে কাটা পড়েন। বাকি উইকেট পেসাররা নিলেও তা স্লগ ওভারেই বেশি। শুরুতে নাগপুরের উইকেটে দাপট বেশি দেখিয়েছেন স্পিনাররা।  রোববার সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচে তাই বাংলাদেশের একাদশে আসতে পারে পরিবর্তন। টিম ম্যানেজমেন্ট পেসার কমিয়ে স্পিনার ঢুকাতে পারেন একাদশে। সেক্ষেত্রে বাঁ-হাতি স্পিনার আরাফাত সানি দলে ঢুকতে পারেন। পেসারদের মধ্যে মুস্তাফিজ খারাপ করলেও নাগপুরের উইকেট বিবেচনায় একাদশে টিকে যেতে পারেন তিনি।

আরও পড়ুন

×