ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

ডারউইন টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা

ডারউইন টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা
×

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে সৌম্য, তাইজুল, শান্ত ও তাসকিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৩০

ক্রিকেটে প্রস্তুতি ম্যাচে বাজেভাবে হারলে প্রত্যাশার সূর্য আড়াল করে সংশয় আর শঙ্কার মেঘ। অস্ট্রেলিয়ার একাদশের কাছে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি ইনিংস ও ৩৮ রানে হারের পর ডারউইন টেস্ট নিয়ে তাই কঠিন হয়ে পড়েছে স্বপ্ন দেখা। অন্তর্মুখী কোচ ফিল সিমন্সকেও প্রস্তুতি ম্যাচের হার নাড়া দেওয়া ছিল চিন্তার কারণ। ব্যাটারদের নিবেদন নিয়ে সমালোচনায় মুখর ছিলেন সেদিন তিনি। গা গরমের ম্যাচে গা ঝাড়া দিতে না পাড়ায় নাজমুল হোসেন শান্তও ঢুকে পড়েন খোলসে। ডারউইনে ১২ দিন হয়ে গেলেও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন অধিনায়ক। আসলে জিম্বাবুয়ের কাছে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি ইনিংস ব্যবধানে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার অখ্যাত ক্রিকেটারদের কাছে নাকানিচুবানি খাওয়ায় মুখ লুকানো ছাড়া উপায়ও ছিল না। আজ ম্যাচপূর্ব অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতা নিয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে শান্তর কাছে। আর সেখানে তিনি বলতে পারেন ভালো ক্রিকেট খেলে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে সম্মান আদায় করে নেওয়ার কথা। দেশ ছাড়ার আগে মিরপুরে অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে তাই বলেছিলেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও তাতে সুর মিলিয়েছিলেন। 

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজের জন্য দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। এইচপি আর বাংলাদেশ ‘এ’ দল পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বোর্ড। টপ অ্যান্ড টি২০ সিরিজ আর চার দিনের ম্যাচ খেলা চার-পাঁচজন ক্রিকেটার টেস্ট দলে রয়েছে। অবশ্য আগের অভিজ্ঞতা তেমন কাজে দেয়নি প্রস্তুতি ম্যাচে। তবে অস্ট্রেলিয়ান মিডলঅর্ডার ব্যাটার ট্রাভিস হেড মনে করেন বাংলাদেশকে প্রস্তুতি ম্যাচের ফল দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। তিনি সোমবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পোর্টালকে বলেছেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় খেলোয়াড়দের মনোযোগ সেভাবে থাকে না। তাই এই ম্যাচের ফল দিয়ে প্রকৃত শক্তি মাপা যায় না।’ বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা টেস্ট সিরিজের জন্য দৃঢ়ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে বলে দাবি তাঁর। জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার শাহরিয়ার নাফিসেরও বিশ্বাস টেস্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। তাঁর মত, প্রস্তুতি ম্যাচে অচেনা ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলা সব সময় কঠিন। স্বাগতিক বোলারদের সম্পর্কে জানাশোনা না থাকায় মুড়িমুড়কির মতো উইকেট হারাতে হয়েছে শান্তদের। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা পরিচিত। প্যাট কামিন্সদের ভিডিও বিশ্লেষণ করে ‘গেম প্ল্যান’ করা সহজ। 

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজদের কাছে সিরিজটি মর্যাদার। তারা জানেন ডারউইন ও ম্যাকয়ে বাজেভাবে হারলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভবিষ্যতে টেস্ট সিরিজ খেলার পথ লম্বা সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ২০০৩ সালে শেষবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। মারারা স্টেডিয়ামেই ছিল সিরিজের প্রথম টেস্ট। পরের ম্যাচটি ছিল কেয়ার্নসে। দুটি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিলেন হাবিবুল বাশাররা। 

২৩ বছর আগের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না তিনি। মুশফিকুর রহিমদের কাছে তাঁর চাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে যেন মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়া যায়। ৯ বছর আগে ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করা দলের তিন ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী মিরাজ খেলবেন এই সিরিজে। যে স্মৃতি ভালো খেলতে প্রেরণা জোগাবে। লিটন কুমার দাস পুরোপুরি ফিট হওয়ায় সেরা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েই খেলতে পারবে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপ। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আর তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ খেলতে পারেন। 

আরও পড়ুন

×