ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্যুর ডায়েরি

নদীর তীরে গিলক্রিস্টের দেখা

নদীর তীরে গিলক্রিস্টের দেখা
×

অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকাইয়ের একটি দৃশ্য -সমকাল

সেকান্দার আলী, ম্যাকাই থেকে

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাইওনিয়ার নদীর বাঁধানো তীর ধরে প্রাতর্ভ্রমণ করছিলেন অনেকে। মিষ্টি রোদ, ঠান্ডা হাওয়ায় স্বর্গীয় একটা পরিবেশ। যাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাঁটছিলাম, তারা সবাই অপরিচিত। চলতে চলতে একটি চেনা মুখের দেখা মিলল। চোখে চোখ পড়তে সৌজন্য বিনিময় করলেন তিনি। বললেন, ‘গুড লাক বাংলাদেশ’। বিস্ময়ের হাসি ও ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এই মানুষটি আর কেউ নন– অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। এই দেশে খেলোয়াড়রা সবাই সাধারণ। রেস্তোরাঁয় পাশাপাশি টেবিলে বসে খাবার খেলেও কেউ কাউকে বিরক্ত করে না। গিলক্রিস্টকেও কেউ জেঁকে ধরেনি অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য। তাই বলে ভাববেন না অস্ট্রেলিয়ায় সাবেক খেলোয়াড়দের কেউ চেনে না। এ দেশের মানুষ খেলাধুলার খোঁজ ভালোই রাখে।

আমার কাছে অবাক লেগেছে গিলক্রিস্ট একজন বাংলাদেশি সাংবাদিককেও চিনে রেখেছেন। ২০২২ সালের টি২০ বিশ্বকাপ কাভার করার সময় অ্যাডিলেডে তিনি ও তাঁর ছোট ছেলের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ কাভার করতে ম্যাকাইয়ে এসেছি তিন দিন হলো। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় গতকাল পর্যন্ত কোনো সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে দেখা না হলেও মূল শহরে থাকার কারণে শপিং মল ও রেস্তোরাঁয় দেখা হয়েছে। চলার পথে দেখা হওয়ায় মানুষগুলোকে একবারের জন্যও অহংকারী মনে হয়নি। বরং অজানা এক ভালো লাগা কাজ করেছে মনের গভীরে। সেই ২০০৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসা। প্রথম এসেছি টিভি সাংবাদিক হিসেবে ডারউইনে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ কাভার করতে। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আর ২০২২ সালে টি২০ বিশ্বকাপ কাভার করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ক্রিকেটার ছাড়াও টেনিস খেলোয়াড়, রাগবি জাতীয় দলের তারকাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের যাপিত জীবন খুবই সাধারণ।

ম্যাকাইয়ে টেস্ট ম্যাচ কাভার করতে এসে দারুণ সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। বাংলাদেশি পরিচয় পেলেই মুহূর্তে অচেনা মানুষ হচ্ছেন চেনা। বিশেষ করে নাজমুল হোসেন শান্তদের ডারউইন টেস্ট জয়ের পর থেকে বাংলাদেশিদের সম্মানের চোখে দেখছে অসিরা। বয়োবৃদ্ধ যে ট্যাক্সি ড্রাইভার প্রথম দিন মাঠে নামাতে গিয়েছিলেন, তাঁকে মনে হয়েছিল উইকিপিডিয়া। ক্রিকেটের রেকর্ড আর ক্রিকেটারদের নাম মুখস্থ তাঁর। ফুটবল, হকি, রাগবি, সাঁতার– সব খেলার খবর আছে তাঁর অভিজ্ঞ মস্তিস্কে। অথচ তিনি বলছেন, খেলাধুলার টুকটাক খোঁজখবর রাখেন। আসলে অস্ট্রেলিয়ানরা ক্রীড়া অনুরাগী একটি জাতি। এজন্যই তো অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন। টি২০ বিশ্বকাপ, টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের ট্রফি জিতেছে। রাগবি, হকি বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছে। শুধু ফুটবলেই তেমন ভালো করতে পারেনি। সেখানেও হয়তো একদিন উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাবে অস্ট্রেলিয়া। ক্রীড়া অনুরাগী হওয়ায় ক্রীড়া সাংবাদিকদের অনেক সম্মান দেশটিতে। বাংলাদেশ দল ম্যাকাইয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে দ্বিগুণ হবে এই সম্মান।

আরও পড়ুন

×