ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরখাস্তের খবর অস্বীকার বিতর্কিত ইংলিশ কোচের

বরখাস্তের খবর অস্বীকার বিতর্কিত ইংলিশ কোচের
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:১৮ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৪৪

সহকারী কোচের সঙ্গে হাতাহাতি, টিম হোটেলে পুলিশ ডাকা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ। সব মিলিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স। শেষ পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

বাফুফের একাধিক সূত্র জেরার্ড জোন্সের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামীকাল উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের। এর ঠিক আগের দিন কোচকে ছাঁটাই করল ফেডারেশন।

বরখাস্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ জেরার্ড জোন্স। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ফেডারেশনের কেউ আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বা এ ধরনের কিছু বলেনি। খবরটি কোথা থেকে এসেছে, সেটাও আমি জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব করে লাভ কী? কেন কেউ ভুল বা মিথ্যা খবর পোস্ট করে দলের সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করবে?’

ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি বলেও জানান জোন্স। তার ভাষ্য, ‘আমার ফুটবল ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতার সামনে আগে পড়িনি। তবে আশা করছি, আগামী ১০ বছর পর হয়তো এটা নিয়ে হাসব।’

আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানে হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান, ভারত ও চাইনিজ তাইপে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মধ্যেই গত বুধবার ঢাকার টিম হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে জোন্স ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি কাজ শুরু করে। দলের ম্যানেজার ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেমও জানিয়েছিলেন, দ্রুত বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা চলছে।

তবে তদন্তের মধ্যেই সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন জোন্স। সেখানে কর্মক্ষেত্রে শারীরিক হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বাফুফেকে আঘাতের ছবি পাঠিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেন এই ব্রিটিশ কোচ।

জোন্স বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আত্মরক্ষার্থেই আমাকে পুলিশ ডাকতে হয়েছিল। আমি বাফুফেকে আমার প্রাপ্ত আঘাতের ছবি পাঠিয়ে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাহায্য বা সমর্থন পাইনি। আমি এখনও নিরাপদবোধ করছি না।’

সহকারী কোচ মিশুর সঙ্গে বিরোধের কথাও অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন জোন্স। তার দাবি, মিশুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো এবং একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।

নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি বলেও দাবি করেছিলেন জোন্স। তার বক্তব্য ছিল, এএফসি বাছাইপর্বে ভালো করার সুযোগ সামনে থাকা অবস্থায় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে, সেটিই তার বোধগম্য নয়। জোন্সের এসব বক্তব্যের পর তার ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত তাকে আর দায়িত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে। গত জুনে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই ব্রিটিশ কোচ।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার অনূর্ধ্ব-২০ দলের সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করে বাফুফে। উজবেকিস্তান সফরের আগে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল আজ। তবে কয়েক ঘণ্টা আগে ফেডারেশন জানায়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ সংবাদ সম্মেলনটি হচ্ছে না। এরপরই জোন্সকে বরখাস্তের খবর সামনে আসে।

আরও পড়ুন

×