ট্রায়ালে গোলরক্ষক খুঁজছেন ডুলি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:০১
একসময় বাংলাদেশের এক নম্বর গোলরক্ষক ছিলেন আনিসুর রহমান জিকো। মালদ্বীপে মদকাণ্ডের জেরে জাতীয় দলে জায়গা হারান তিনি। জিকোর শূন্যস্থান শুরুতে দারুণভাবে পূরণ করেন মিতুল মারমা। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই গোলপোস্টের নিচে ছন্দ হারান মিতুল। তাঁর বিকল্প এখন পর্যন্ত তৈরি না হওয়ায় মিতুলেই আস্থা বাংলাদেশ কোচদের। তাই তো নতুন গোলরক্ষকের সন্ধানে নেমেছেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি। তাঁর নজরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফ কেরাওয়ালা। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির এ ফুটবলারকে কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় ট্রায়ালে পরখ করবেন ডুলি। ট্রায়ালে যদি টিকে যান, তাহলে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা আসিয়ান কাপে দেখা যেতে পারে সাইফকে।
সাইফের সঙ্গে জাপানপ্রবাসী সুকি ইতফকাকেও ট্রায়ালে দেখবেন থমাস ডুলি। তবে ডুলির এই ‘ট্রায়াল তত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয় দলে খেলা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কিউবা মিচেল ক্ষুব্ধ নিজের টাকা খরচ করে এই ট্রায়াল দেওয়ার ব্যাপারে। ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল নিয়ে ডুলি অনুশীলন চালিয়ে গেলেও সেই দলে কেন কিউবা মিচেল নেই, তার ম্যাচ টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডুলি তাকে স্কোয়াডে নেননি। এটা হতেই পারে, ক্লাবের হয়ে পারফেমেন্স করলে ফের হয়ত তাকে জাতীয় দলে বিবেচনা করা হতে পারে। তাই বলে তাকে কেন ‘ট্রায়াল’ দিতে হবে ? যে জাতীয় দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন যোগ্যতা দিয়ে। তাকে কেন ফের নতুন কোচের কাছে ট্রায়াল দিতে হবে ?
প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশ কোচ দিয়েছেনও। কিউবার নাকি পর্যাপ্ত গেম টাইমিং নেই। কিউবাকে বিবেচনায় নেওয়ার মতো নাকি পারফরম্যান্স নেই। যে কারণে অন্য সবার মতো কিউবাকেও ট্রায়াল দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ডুলি। শুধু তাই নয়; বাংলাদেশে ট্রায়াল দিতে আসতে হলে বিমানের খরচটাও কিউবাকে বহন করতে হবে। কোচের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও অভিমানে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম থেকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সব ছবি মুছে ফেলেছেন ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। যে প্লেয়ার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন, বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলেছেন, সেই কিউবার জন্য ট্রায়াল দেওয়াটা অসম্মানই বটে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল কিউবার। সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে শেষ ১০ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। এরপর আর বাংলাদেশের সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে খেলা হয়নি তাঁর। গত বছরের জুলাইয়ে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি করেন মিচেল। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই বেতন ইস্যুতে ক্লাবের সঙ্গে সর্ম্পকচ্ছেদ করে ইংল্যান্ডে চলে যান এই মিডফিল্ডার। ছয় মাস ধরে ক্লাবহীন ছিলেন কিউবা। গত ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের সেমি-প্রফেশনাল লিগ গ্লুকস্টার সিটিতে যোগ দেন। গত জুনে সাউদার্ন লিগ প্রিমিয়ার ডিভিশনের আরেকটি ক্লাব স্টেটফোর্ড টাউনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ক্লাবটির জার্সিতে চারটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
কিউবার এমন অভিমানে দুরে সরে থাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যেও একটা অনাস্থা তৈরি হতে পারে। এর আগে বয়সভিত্তিক দলে ট্রায়াল দিতে এসে অনেকেই ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশ ছিলন। তবে সে তালিকায় গোলরক্ষক খুব কমই পাওয়া গিয়েছে। তবে সাইফের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যতিক্রম। বাফুফে প্রথমে তাঁর সিভি দেখে, তারপর দেখেছে কোন ক্লাবে খেলেন। এরপর খেলার ভিডিওগুলো বাফুফের টেকনিক্যাল বিভাগ পর্যালোচনা করেছে। প্রধান কোচ ডুলির সঙ্গে আলোচনা করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমেরিকান প্রবাসী গোলরক্ষক সাইফকে ট্রায়ালে আনার। ১৯৯৭ সালের ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বেলেভু শহরে জন্মগ্রহণ করেন সাইফ। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই গোলরক্ষক বর্তমানে আমেরিকার ক্লাব ওয়াশিংটন অ্যাথলেইয়ের হয়ে নিয়মিত খেলছেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন। এখন অপেক্ষা ট্রায়ালে এই গোলরক্ষক কতটা কোচের আস্থা অর্জন করতে পারেন তা দেখার।
- বিষয় :
- থমাস ডুলি
- বাংলাদেশ ফুটবল
- বাফুফে
- কিউবা মিচেল