ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অতৃপ্তি নিয়ে তাসখন্দে নামছেন যুবারা

অতৃপ্তি নিয়ে তাসখন্দে নামছেন যুবারা
×

ছবি- বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২০

আলোচনায় থাকার কথা ছিল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল মাঠের বাইরের নানা ইস্যু নিয়ে আছে আলোচনায়। প্রধান কোচ জেরাল্ড জোন্সের সঙ্গে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর হাতাহাতি, তারপর টিম হোটেলে ব্রিটিশ কোচের পুলিশ ডাকা সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। একই সঙ্গে শক্তিশালী কোনো দেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার অতৃপ্তি। সেই অতৃপ্তি নিয়েই এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ শুরু করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের যুবারা। তাসখন্দের দুস্তলিক স্টেডিয়ামে আজ স্বাগতিক উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দলটি। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের বাকি প্রতিপক্ষ হলো সিরিয়া ও ভারত।

এএফসি কাপের এই আসর নিয়ে শুরুতে অনেক বড় পরিকল্পনা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। যশোরের শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে এক মাসের ট্রেনিংও করে তারা। এরপর থাইল্যান্ডে গিয়ে ক্যাম্প করার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল যুবাদের। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে থাইল্যান্ড যাওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি বলতে ফর্টিস এফসি ও বাংলাদেশ আর্মির সঙ্গে খেলা। কম প্রস্তুতি নিয়ে উজবেকিস্তানে যাওয়া দলটিকে প্রথম ম্যাচেই পড়তে হচ্ছে কঠিন চ্যালেঞ্জে। এ বছর স্বাগতিক উজবেকিস্তান অনেক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। গ্রাসরুট পর্যায়ে দেশটি বেশ উন্নতি করেছে, যার কারণে দেশটির বয়সভিত্তিক দলে মানসম্মত সব খেলোয়াড় সুযোগ পাচ্ছেন। দেশটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ নজরকাড়া। কয়েক দিন আগে প্রীতি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারায় উজবেকিস্তান। গত জুলাইয়ে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে একটিতে জয় এবং সমান ম্যাচে ড্র করেছিলেন উজবেক যুবারা। এ বছর শুধু চীনের বিপক্ষে একটি হারের স্বাদ পেয়েছেন তারা। বছরজুড়ে দুটি ড্রয়ের সঙ্গে জয় পেয়েছেন বাকি ছয় ম্যাচে।

তবে প্রস্তুতি নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না কোচ জোন্স; বরং নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারলে এই উজবেকিস্তানকে চমক দেখাতে পারবে বলে বিশ্বাস পুরো দলের। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোলপোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে নাহিদুল ইসলামকে। যুবাদের নিয়মিত গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন এবার দলে নেই। রক্ষণে জিদান ইউসুফের দিকে আলাদা নজর থাকবে সমর্থকদের। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এ ডিফেন্ডার হতে পারেন আস্থার প্রতীক। রক্ষণ সামলানো এমন সেটপিসে নিজের উচ্চতা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারেন হুমকির কারণ। তাঁর সঙ্গে সেন্টার ব্যাক পজিশনে মিঠু চৌধুরী, ফাহিম ও রিয়াজ আছেন স্কোয়াডে। 

ফুলব্যাক পজিশনে দলে রয়েছেন মাসুদ রানা, সিয়ামের মতো ফুটবলার। মাঝমাঠ বাংলাদেশের জন্য শক্তির জায়গা। লম্বা সময় বয়সভিত্তিক দলে খেলা নাজমুল হুদা ফয়সাল তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পারফর্ম করতে চাইবেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কামাল মৃধা ও সাফিউল হোসেনের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা। মাঝমাঠে আরও রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা ঈশান মালিক। এর আগে লাতিন বাংলা টুর্নামেন্টে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান তিনি। এবার দেশের হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে রয়েছেন।

বাংলাদেশের আক্রমণভাগ নিয়ে বেশ আশাবাদী সমর্থকরা। দলে আছেন লেফট উইংয়ে খেলা ফারজাদ আফতাব। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা ফারজাদ এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছিলেন। তবে তখন তাঁকে মাঠে নামাননি তৎকালীন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন গত বয়সভিত্তিক সাফে খেলা মানিক। গতি দিয়ে তিনি সবাইকে মোহিত করেছিলেন। রাইট উইংয়ে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন অ্যাডাম আব্বাস। ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা অ্যাডাম আব্বাসকে নিয়ে সবার বড় স্বপ্ন। দলে মূল নাম্বার নাইন হিসেবে আছেন মাহি খান। প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি। যদিও হাতের ইনজুরিতে থাকা মাহি খানকে শুরু থেকে কোচ খেলাবেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন

×