ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ৩৫০

হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ৩৫০
×

ছবি- ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৬

তাওহীদ হৃদয়ের বৃহস্পতি তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পর বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে রান উৎসব করছেন তিনি। তাঁর সাফল্যের মুকুটে যোগ হওয়া শেষ পালক রেকর্ড গড়া ট্রিপল সেঞ্চুরি। পচেফস্ট্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৫০ রান করেন মিডলঅর্ডার এ ব্যাটার। দেশের পক্ষে সাড়ে তিনশ করা প্রথম ক্রিকেটার তিনি। বিদেশের মাটিতেও ট্রিপল সেঞ্চুরি পাওয়া দেশের প্রথম হৃদয়। পচেফস্ট্রম সেই ভেন্যু, যেখানে ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে বাংলাদেশ। ভারতকে হারিয়ে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয় জিতেছিলেন তাওহীদরা। চেনা মাঠে দারুণ ব্যাট করে দেখা পেলেন মাইলফলকের। তিনি আরও একবার হৃদয় জেতেন ক্রিকেটানুরাগীদের।

এ বছর জিম্বাবুয়েতে টেস্ট অভিষেক হয়েছে হৃদয়ের। ইনিংস ব্যবধানে হারা সে ম্যাচে ১২ রান করেছিলেন তিনি। টেস্ট পরীক্ষায় পাস মার্কস না পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সফরে নেওয়া হয়নি তাঁকে। টেস্টের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ‘এ’ দলের হয়ে চার দিনের ম্যাচ খেলার আগ্রহ নিজে থেকে প্রকাশ করেন বলে জানান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। প্রোটিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে লাল বলে নিজের সক্ষমতা দেখান হৃদয়। ৪৮১ বলে ২৭টি চার ও ১০টি ছয়ে হার-না-মানা ৩৫০ রান করেন তিনি। 

নিজের রেকর্ড ইনিংস নিয়ে হৃদয় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ম্যাচ অফিসিয়ালরা আমাকে বলছিলেন, কত মানুষ ইউটিউবে ব্যাটিং দেখছে। আমি তখন তাদের বলি, বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটকে অনেক ভালোবাসে। তারা সব ধরনের খেলা দেখে। তিনশ অনেক বড় মাইলফলক। তাই সবাই দেখেছিল। আপনারা তো দেখেছেন, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে পুরো স্টেডিয়াম বাংলাদেশি সমর্থকে ভরপুর ছিল। আমরা যেখানেই খেলি, সবাই আমাদের সাপোর্ট করবে।’

১৯১.২ ওভার ব্যাট করে ৬৭৬ রানে ৮ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। সাড়ে তিনশ রানের রেকর্ড গড়ায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এক্সে এক পোস্টে হৃদয়কে অভিনন্দন জানান। তামিম ২০২০ সালে বিসিএলে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৩৩৪ রান করেছিলেন মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন রকিবুল হাসান। ২০০৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ৩১৩ রান। চার দিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা দেশের তৃতীয় আর আন-অফিসিয়াল টেস্টে প্রথম হৃদয়। বিদেশের মাটিতে আন-অফিসিয়াল টেস্টে আগের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার।

আগের দিন শেষ বলে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে আউট হন। ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। গতকাল বুধবার সেখান থেকে দিন শুরু করেন নাঈম হাসানকে সঙ্গী করে। বেশিদূর যেতে পারেনি এই জুটি। নাঈম স্টাম্পড হন ১৬ রানে। হাসান মাহমুদও জুটি গড়তে পারেননি। ১১ রানে বাঁহাতি স্পিনার কাইল সিমন্ডসের বলে বোল্ড হন। বাংলাদেশ তখন ৮ উইকেটে ৫১৯ রানে। রেজাউর রহমান রাজাকে নিয়ে জুটি গড়েন হৃদয়। সাহসী সঙ্গী পেয়ে ৩৮১ বলে পৌঁছান ২৫০ রানে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার সময় ২৭৪ রানে ছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটার। রেজাউর রাজার মতো টিকে থাকায় হৃদয় শেষ করেন রেকর্ড গড়ে। ট্রিপল সেঞ্চুরি হওয়ার পর দুটি ছয় হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের হতাশায় ডোবান তিনি। হৃদয়ের রেকর্ডের ম্যাচে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলীও ভালো ব্যাট করেছেন। ১৬৮ বলে ১১ চার ও ৩ ছয়ে ৯৪ রান করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান করে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করে ম্যাচ ড্র মেনে।

আরও পড়ুন

×