‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ফুটবলের বাস্তবতা বুঝেন না’
ছবি- বাফুফে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩২
বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও দল নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করা এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সমর্থকদের বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আসিয়ান কাপের উদ্দেশে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ফুটবলের বাস্তবতা বুঝতে পারেন না। বিশেষ করে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় দল নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা হলেও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই খেলোয়াড় বাছাই করছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পার্থক্য বোঝাতে ডুলি তাদের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, এসব দলের কয়েকজন ফুটবলার জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলছেন। বাংলাদেশের ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এখনো সেই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়নি।
ডুলির ভাষায়, বাংলাদেশের অবস্থান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১৮০-এর আশপাশ থেকে ১৫০-এর কাছাকাছি নিতে হলেও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তাই কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতির পরই শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোকে সহজে হারানোর প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের বড় পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। তার দাবি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর গত এক মাসে চার-পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ছয় থেকে আট সপ্তাহ একসঙ্গে অনুশীলন করেছে। বিপরীতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর বাংলাদেশের স্থানীয় খেলোয়াড়দের বড় একটি অংশ প্রায় দুই মাস দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন।
‘পেশাদার ফুটবলে সাধারণত প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতেই ছয় সপ্তাহ সময় লাগে এবং প্রতিদিন একাধিক সেশন থাকে। অথচ আমরা মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে খেলোয়াড়দের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি’, বলেন ডুলি।
ইউরোপভিত্তিক প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম অবশ্য নিজ নিজ ক্লাবের প্রস্তুতি নিয়েই জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন। তবে শুধু পরিশ্রম দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সামগ্রিক ব্যবধান কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন ডুলি। তাঁর মতে, লিগের মান, খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং প্রস্তুতির সুযোগও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের সামনে আসিয়ান কাপে কঠিন তিন প্রতিপক্ষ। সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়া ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬ ও সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বরে। বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে জামাল ভূঁইয়ার দল।
- বিষয় :
- থমাস ডুলি
- বাংলাদেশ ফুটবল
- বাফুফে
- এশিয়ান গেমস