ব্যালন কেন পেলেন না তারা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৩
আগের দিনই হাইভোল্টেজ ‘এল ক্ল্যাসিকো’র ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে পরিবার আর বন্ধুদের নিয়ে বার্সেলোনা থেকে চার্টার্ড জেটে চেপে লন্ডনে ল্যান্ড করেছিলেন ইয়ামাল। চোখে ছিল বিশ্বকাপ জয়ের টাটকা আলো আর সোনালি বলটা ছুঁয়ে দেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা। অন্য প্রান্তে কিলিয়ান এমবাপ্পেও এসেছিলেন রাজকীয় প্রত্যাশা নিয়ে। এ দুই তারকাকে দর্শক আসনে স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটা ছিনিয়ে নিলেন হ্যারি কেইন। কেন পারলেন না স্প্যানিশ ফুটবলের এ দুই পোস্টারবয়? গ্ল্যামার আর প্রচারণার ভিড়ে কোথায় খেই হারিয়ে ফেললেন তারা? ইএসপিএনের দুই তীক্ষ্ণধী সাংবাদিক–মাদ্রিদ প্রতিনিধি অ্যালেক্স কার্কল্যান্ড ও বার্সেলোনা প্রতিনিধি স্যাম মার্সডেনের ভেতরের খবরের ওপর চোখ রেখে সেই ব্যবচ্ছেদে যাওয়া যাক...
কোনো ট্রফি ছিল না এমবাপ্পের কাছে
এর আগে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে চতুর্থ (২০১৮ সালে), তৃতীয় (২০২৩ সালে) এবং দ্বিতীয় (এ বছর) স্থান অর্জন করেছেন। প্রথম স্থানটি এখনও তাঁর অধরাই রয়ে গেছে। সত্যি বলতে কি, রিয়াল মাদ্রিদ গত মৌসুমে কিছুই জিততে পারেনি, কারণ তারা টানা দ্বিতীয় বছরের মতো লা লিগায় বার্সেলোনার পেছনে থেকে মৌসুম শেষ করে। ২০২৪ সালে যোগ দেওয়ার পর এমবাপ্পে এখনও তাঁর ক্লাবের হয়ে কোনো বড় ট্রফি জিততে পারেননি। আর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ফ্রান্স (অনেকের চোখে যারা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফেভারিট ছিল) সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয় এবং আরও একবার কোনো বড় টুর্নামেন্টের শেষ ধাপে এসে ব্যর্থ হয়। এমবাপ্পে অবশ্যই অসাধারণ সংখ্যক গোল করেছেন। লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫টি, আর তার চেয়েও বড় কথা বিশ্বকাপে আরও ১০টি, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়ে দিয়েছে। তবে কোনো ট্রফি না জেতা– এটি ব্যালন ডি’অর পাওয়ার ক্ষেত্রে এমবাপ্পের জন্য বড় এক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বয়স এখন ২৭; অন্যদিকে কেইনের বয়স ৩৩। এমবাপ্পের ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য রিয়াল মাদ্রিদের পুনরুত্থান প্রয়োজন। এই মৌসুমে লা লিগা কিংবা তার চেয়েও ভালো হয় যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা যায়– মাদ্রিদের সেরা খেলোয়াড় ও শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে–তাহলে ২০২৭ সালে তাঁর দাবিটি সত্যিই শক্তিশালী হবে, বিশেষ করে আগামী বছর বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নেই, যা তাঁর ক্লাব সাফল্যকে ম্লান করতে পারে।
বিশ্বকাপে ইয়ামালের গোলের অভাব
এমবাপ্পের মতো ইয়ামালের কিন্তু ট্রফিশূন্যতা ছিল না। বিশ্বকাপের মতো শ্রেষ্ঠ ট্রফি জিতেছিলেন তিনি স্পেনের হয়ে। বার্সার হয়েও লা লিগা জিতেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল করেছিলেন ইয়ামাল। সে কারণেই ব্যালন ডি’অর জয়ে তিনি পিছিয়ে পড়েছিলেন। গত মৌসুমে বার্সার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪টি গোল এবং ১৮টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি করার পর একটি আশাবাদ তৈরি হয়েছিল যে ইয়ামাল হয়তো সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’’অর জিতবেন। আসলে বিশ্বকাপে গোলের ঘাটতি থাকাটাই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গেছে। যদিও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে তিনি বেশ প্রাণবন্ত ছিলেন, নিজের ও সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করছিলেন। যদি ফেরান তোরেসের জায়গায় তিনি জয়সূচক গোলটি করতেন, তবে হয়তো সোমবার লন্ডনে কেইন ও এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অরটি জিততেন।
- বিষয় :
- ব্যালন ডি’অর