হতাশার সেশনের পর আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে চা-বিরতি
ছবি- সমকাল
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:১৯ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২৮
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতাশার একটি সেশন কাটিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভারে ৮৯ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা, হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। এর মধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। পরে আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগেই চা-বিরতি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৮৯ রান। ৬৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত আছেন ক্যাম্পবেল। অন্য প্রান্তে তেজনারায়ণ চন্দরপল খেলছেন ২৭ বলে ২১ রান নিয়ে।
চন্দরপল ও ক্যাম্পবেলের ব্যাটে এগোচ্ছে উইন্ডিজ
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জন ক্যাম্পবেলের ব্যাটে ১৫ ওভার শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫২ রান। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেছেন ২৩ রান।
এই জুটিতে দুইবার জীবন পেয়েছেন ক্যাম্পবেল। প্রথমবার হাসান মাহমুদের বলে তার ক্যাচ ছাড়েন নাঈম হাসান। তখন ক্যারিবীয় ওপেনারের রান ছিল ৫। এবার ১৫তম ওভারের শেষ বলে নিজের বোলিংয়ে সহজ ক্যাচ ফেলেছেন শরীফুল ইসলাম। ওই সময় ২২ রানে ব্যাট করছিলেন ক্যাম্পবেল। দুইবার সুযোগ পেয়েও টিকে আছেন ক্যাম্পবেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজও এগিয়ে নিচ্ছে তাদের ইনিংস।
উইন্ডিজের শুরুর জুটি ভাঙলেন হাসান
বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পঞ্চম ওভারেই ক্যারিবীয়দের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন হাসান মাহমুদ। তার বলে উইকেটকিপার জাকের আলী অনিকের গ্লাভসে ধরা পড়ে সাজঘরে ফিরেছেন ব্র্যান্ডন কিং।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় ওভারেই উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান। তার বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন জন ক্যাম্পবেল। তবে সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি নাঈম হাসান। ক্যাম্পবেল তখন ৫ রানে ব্যাট করছিলেন। জীবন পেয়ে আরও দুটি চার মারেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি কিং। হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ২০ বলে তিন চারে ১৫ রান করেন এই ওপেনার। তার বিদায়ে ২৯ বলে ২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। পাঁচ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৯ রান।
লিটনের চোট, উইকেটকিপিংয়ে জাকের
চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটকিপিং করছেন না লিটন দাস। তার পরিবর্তে গ্লাভস হাতে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বদলি উইকেটকিপার জাকের আলী অনিক। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় বলের আঘাতে ডান কনুইয়ে চোট পান লিটন। চোট নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, লিটনের চোট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাকের আলী বদলি উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২৭২ রানেই অলআউট বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও তা কাজে লাগাতে পারল না বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির পর ব্যাটিং ধসে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ সাতটি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনের সকালে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০৫ রানে অভিষিক্ত জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়।
সাদমানের পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়। আগের দিন পেশিতে টান লাগায় ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। সাদমান আউট হওয়ার পর আবার ব্যাটিংয়ে ফিরলেও কোনো রান যোগ করতে পারেননি হৃদয়। বিশপের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গ দিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে জোমেল ওয়ারিক্যানের সোজা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১৫ রানেই থামতে হয় তাকে। লিটনের সঙ্গে তার ৩২ রানের জুটিটি স্থায়ী হয় ৭১ বল।
মিরাজের বিদায়ের পর নাঈম হাসানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শামার জোসেফের ১৪১.২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১২ বলে ৫ রান করে ফেরেন নাঈম। এরপর একই বোলারের শিকার হন হাসান মাহমুদ। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ রান। শেষ দিকে জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে ফিরেছেন তাইজুল ইসলামও। উইকেটকিপার আমির জাঙ্গুর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এক প্রান্তে ৮৮ বলে চার চারে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে যান লিটন দাস।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন সাদমান। লিটন করেন ৩২ রান। ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার ওয়ারিক্যান। শামার জোসেফ তিনটি উইকেট নেন। অভিষিক্ত বিশপ পান দুটি উইকেট।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
- টেস্ট সিরিজ