ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

হজের পর জাঙ্গুকে ফেরালেন তাইজুল

হজের পর জাঙ্গুকে ফেরালেন তাইজুল
×
×

ছবি- বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪৪ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:১৮

শুরুর দিকে খরুচে বোলিং করলেও পরবর্তীতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন তাইজুল ইসলাম। তার স্পিনে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৬তম ওভারে কোনো রান খরচ না করেই কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি এই স্পিনার। ২০ বলে এক চারে সাত রান করেন হজ। ৩ বলে শূন‍্য রানে ফেরেন জাঙ্গু। মিরপুরে তিনি তাইজুলের ৯৬তম শিকার। ৩৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ৯৭।

শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরলেন ফিফটি করা ক্যাম্পবেল

আলোকস্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মিরপুর টেস্টে আবার শুরু হয়েছে খেলা। তৃতীয় সেশনের শুরুতেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ ক্যাচে ফিরেছেন ফিফটি করা জন ক্যাম্পবেল। অফ স্টাম্পের বাইরে মিরাজের হাওয়ায় ভাসানো বলে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ক্যাম্পবেল। বল তালুবন্দি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। ৫৪ রান করে ফেরেন ক্যারিবীয় ওপেনার। ক্যাম্পবেলের বিদায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। ৩২ ওভার শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৫ রান। তেজনারায়ণ চন্দরপল ২১ ও ক্যাভেম হজ ৫ রানে অপরাজিত আছেন।

হতাশার সেশনের পর আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে চা-বিরতি

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতাশার একটি সেশন কাটিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভারে ৮৯ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা, হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। এর মধ্যে ফিফটি তুলে নিয়েছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। পরে আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগেই চা-বিরতি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৮৯ রান। ৬৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন ক্যাম্পবেল। অন্য প্রান্তে তেজনারায়ণ চন্দরপল খেলছিলেন ২১ রান নিয়ে।

চন্দরপল ও ক্যাম্পবেলের ব্যাটে এগোচ্ছে উইন্ডিজ

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জন ক্যাম্পবেলের ব্যাটে ১৫ ওভার শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৫২ রান। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ২৩ রান।

এই জুটিতে দুইবার জীবন পান ক্যাম্পবেল। প্রথমবার হাসান মাহমুদের বলে তাঁর ক্যাচ ছাড়েন নাঈম হাসান। তখন ক্যারিবীয় ওপেনারের রান ছিল ৫। এরপর ১৫তম ওভারের শেষ বলে নিজের বোলিংয়ে সহজ ক্যাচ ফেলেন শরীফুল ইসলাম। ওই সময় ২২ রানে ব্যাট করছিলেন ক্যাম্পবেল। দুইবার সুযোগ পেয়েও টিকে থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস এগিয়ে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

উইন্ডিজের শুরুর জুটি ভাঙলেন হাসান

বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পঞ্চম ওভারেই ক্যারিবীয়দের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। তাঁর বলে উইকেটকিপার জাকের আলী অনিকের গ্লাভসে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিং।

তৃতীয় ওভারেই উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান। তাঁর বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন জন ক্যাম্পবেল। তবে সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি নাঈম হাসান। ক্যাম্পবেল তখন ৫ রানে ব্যাট করছিলেন।

অন্যদিকে, হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কিং। ২০ বলে তিন চারে ১৫ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ২৯ বলে ২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। পাঁচ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ২৯ রান।

লিটনের চোট, উইকেটকিপিংয়ে জাকের

চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে উইকেটকিপিং করছেন না লিটন দাস। তাঁর পরিবর্তে গ্লাভস হাতে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বদলি উইকেটকিপার জাকের আলী অনিক।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় বলের আঘাতে ডান কনুইয়ে চোট পান লিটন। চোট নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও ফিল্ডিংয়ে নামতে পারেননি তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, লিটনের চোট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২৭২ রানেই অলআউট বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির পর ব্যাটিং ধসে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ সাতটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনের সকালে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০৫ রানে অভিষিক্ত জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়।

সাদমানের পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়। আগের দিন পেশিতে টান লাগায় ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। সাদমান আউট হওয়ার পর আবার ব্যাটিংয়ে ফিরলেও কোনো রান যোগ করতে পারেননি হৃদয়। বিশপের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ব্যাটার।

এরপর লিটন দাসকে সঙ্গ দিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে জোমেল ওয়ারিক্যানের সোজা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১৫ রানেই থামতে হয় তাঁকে। লিটনের সঙ্গে তাঁর ৩২ রানের জুটিটি স্থায়ী হয় ৭১ বল।

মিরাজের বিদায়ের পর নাঈম হাসানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শামার জোসেফের ১৪১.২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১২ বলে ৫ রান করে ফেরেন নাঈম। এরপর একই বোলারের শিকার হন হাসান মাহমুদ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬ রান।

শেষ দিকে জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে ফেরেন তাইজুল ইসলামও। উইকেটকিপার আমির জাঙ্গুর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এক প্রান্তে ৮৮ বলে চারটি চারে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন দাস।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন সাদমান। ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার ওয়ারিক্যান। শামার জোসেফ তিনটি এবং অভিষিক্ত বিশপ দুটি উইকেট নেন।

আরও পড়ুন

×