নিজেদের স্পিন ফাঁদেই কুপোকাত বাংলাদেশ
ছবি- বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:২৯
ব্র্যান্ডন কিং আর জন ক্যাম্পবেলের রুদ্ররূপ দেখে বোঝা গিয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তদের ললাটে পরাজয়ের তিলক এঁকে দেওয়া সময়ের ব্যাপার। সেই বিষাদময় মুহূর্ত এলো সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার আগেই। বৃষ্টিবাধা না হলে জয়-পরাজয়ের হিসাবটা মিলে যেত আরও আগে। উইন্ডিজ ওপেনিং জুটি জয়ের মালা গেঁথে ছিল ২০ ওভার ৫ বলে ১১২ রান তোলে। ব্র্যান্ডন সেই জয়ের মালা পরে মাঠ ছাড়েন ‘কিং’ হয়ে। শান্তরা তখন বিমর্ষ মুখে সৌজন্যের করমর্দন শেষ করে ফেরেন সাজঘরে। ক্যারিবীয়দের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চকে করে তোলে ভাঙা হাট। ওই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেককে বলাবলি করতে শোনা গেছে ‘এমন তো কথা ছিল না!’
দেশে খেলার সুবিধা নিতে অনেক দিন পর স্পিন উইকেট বেছে নেয় বাংলাদেশ। শান্তরা ভেবেছিলেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্পিনের ফাঁদে ফেলে ঢাকা টেস্ট জিতে নেওয়া সহজ হবে। ‘ক্যালকুলেশন’ ভুল হওয়ায় নিজেদের পাতা ফাঁদেই আটকে পড়ে স্বাগতিকরা। যদিও টাইগার দলপতি শান্ত বলছেন উন্ডিজের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার জন্য এমন উইকেটে খেলা। টেস্ট ম্যাচ শেষে শান্তদের কি মনে হয়নি ভিডিও অ্যানালিস্ট সঠিক বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এভাবে ভুলের পর ভুল করে উইন্ডিজের কাছে টাইগাররা ৮ উইকেটে হেরে যায় ঢাকা টেস্ট।
টেস্টে টাইগারদের বছরটা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে। স্পোর্টিং উইকেটে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছিলেন লিটন কুমার দাসরা। ঢাকা টেস্টে ক্যারিবীয়দের হারানোর কথা হেসেখেলে। এই টেস্টে শুরুতে সবকিছুই ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন শান্ত। বেশ ভালোভাবে শেষ হয়েছিল প্রথম দিনের খেলা। দুই উইকেটে ২১৩ রান করেছিল স্বাগতিকরা। বৃষ্টি ও আলোস্বল্পতার সুবিধা পেয়ে টানা দুই দিন লিডে থাকে বাংলাদেশ। নাঈম হাসান চার উইকেট নেওয়ায় সফরকারীদের বেঁধে ফেলে ২৪৫ রানে। ২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামেন শান্তরা। অফস্পিনার রোস্টন চেজ আর বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান জাদুকরি বোলিং দিয়ে স্বাগতিকদের বেঁধে ফেলেন ১৪২ রানে। ৬ উইকেটে ৭৯ রানে তৃতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। লিড ছিল ১০৬ রানের। জাকের আলী ও নাঈম হাসানের কাছে প্রত্যাশা ছিল বেশি। মুমিনুল হকের জায়গায় কনকাশন সাব খেলতে নামা জাকের উইকেট ছুড়ে দেন চতুর্থ দিন সকালে। পরে ছিল নাঈমের একার লড়াই। সতীর্থ বোলারদের নিয়ে ৫২ রান করেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তাঁর। মূলত নাঈমের দৃঢ়তায় ১৭০ রানের লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব হয়।
মিরপুরে খেলা হওয়ায় ওই রানকেও মনে করা হচ্ছিল নিরাপদ। মধ্যাহ্নবিরতির আগে এক ওভার ব্যাট করেছিল উইন্ডিজ। তখন ক্যারিবীয় ওপেনিং জুটির নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে জয় টাইগারদের ছোঁয়া দূরত্বে। বিরতি থেকে ফিরে বোলাররা চাপটা তৈরি করতে পারেননি। তিন স্পিনার পালা করে বোলিং করলেও ব্রেক থ্রু আসেনি। ১১২ রানের জুটি হওয়ার পর হাল ছেড়ে দেয় স্বাগতিক দল। জন ক্যাম্পবেলকে ৪৯ রানে বোল্ড আউট করলেও ব্রেন্ডন কিং ছিলেন অবিচল। ত্যাগনারায়ণ চন্দরপলের উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। স্পিনারদের দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন পেসারদ্বয়। অথচ বাংলাদেশের ১০ উইকেটের ৯টি নিয়েছেন ক্যারিবীয় দুই স্পিনার। রোস্টন পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করেন রোস্টন। ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার জোমেলের।
আসলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের পর থেকে উড়ছিলেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের খেলার সূচির বিন্যাসে ভুল ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। গায়ে গায়ে সিরিজ রাখায় মূল ক্রিকেটাররা প্রস্তুতি নিতে পারেননি। যদিও কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক শান্ত জোর গলায় বলেছেন, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। গতকাল ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও অধিনায়ক একই দাবি করেন। টেস্ট খেলার জন্য দুই সেশন প্র্যাকটিস যথেষ্ট কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যায়। আসলে টানা দুটি টেস্ট সিরিজ পরিযায়ী ক্রিকেটারদের মতো খেলছে বাংলাদেশ। আইএল টি২০ বা এসএ টোয়েন্টিতে খেলে বিদেশি ক্রিকেটাররা যেমন বিপিএলে খেলতে আসেন, তানজিদ হাসানদের সেভাবে খেলতে হচ্ছে। এশিয়ান গেমস শেষে টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে আবুধাবি গিয়েছিলেন তারা। আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্য দুদিন প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তারা।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
- টেস্ট সিরিজ