মাঠ ফেরতের দাবিতে অনড় শেকৃবি শিক্ষার্থীরা, চতুর্থ দিনেও সড়ক অবরোধ
আগারগাঁও-ফার্মগেট সড়কে যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ছবি-সমকাল
শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:৫২
গবেষণার মাঠ (পুরোনো বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর আগারগাঁও-ফার্মগেট সড়ক অবরোধ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (১ নভেম্বর) পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাঁরা এ অবরোধ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গবেষণার জন্য নির্ধারিত জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। জমি হস্তান্তরে বিলম্বের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাস ও জমি উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। এ জন্য সাময়িক কিছু ভোগান্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে তা মেনে নিতে সম্মত হয়েছি।’
শিক্ষার্থীরা জানান, জমি উদ্ধারের দাবিতে কয়েক দিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মেলা প্রাঙ্গণে গণজমায়েত ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্দোলনের প্রথম দিনে পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে গণজমায়েত করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা কমিটিকে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন তাঁরা। ওই জমিতে সচিবালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ চলছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা মাটি পরীক্ষার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। একই সঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের টাঙানো একটি সাইনবোর্ডও খুলে নেন।
পরদিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ না করায় শিক্ষার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবকাঠামো ভাঙচুর করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা।
টানা অবরোধের কারণে আগারগাঁও থেকে ফার্মগেটমুখী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আশপাশের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণার মাঠটি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে শেকৃবি পরিবার। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিন মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।