যুদ্ধ কিংবা সহায়তা: ডেমোক্র্যাটদের জয়ে আসতে পারে ৪ পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ৪ পরিবর্তন আসতে পারে। ইলাস্ট্রেশন: ফরেন পলিসির সৌজন্যে
রয়টার্স
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫৫ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫:০৩
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর। নির্দলীয় বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ভালো সম্ভাবনা আছে। এতে দুই বছর দলটি ওয়াশিংটনের ক্ষমতার একটি অংশ ফিরে পাবে।
দুই বছর আগে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ ঘোষণা ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে দিয়ে রেখেছে রিপাবলিকানরা। অথচ সংবিধান অনুযায়ী, এই ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে থাকার কথা।
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে যেভাবে লাগাম টানতে পারে, তার কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো:
ইরান যুদ্ধের লাগাম টানা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি। যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ডেমোক্র্যাটরা বারবার প্রস্তাব এনেছে। তাদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন না। এমন একটি প্রস্তাবে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন পরে তা উপেক্ষা করে।
প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করার চেষ্টা থাকবে। এছাড়া, যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তার সুযোগ
কিয়েভকে সরাসরি আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়া অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। অথচ এ সহায়তার পক্ষে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন আছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি রুশ ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পর তা স্থগিত করেন। যা অনেক কংগ্রেস সদস্য এমনকি রিপাবলিকানদেরও ক্ষুব্ধ করেছে।
নভেম্বরে কংগ্রেসের উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিল উত্থাপন ও কোনটির ওপর ভোট হবে তা নির্ধারণ করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। এতে ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প ভেটো দিলেও বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
ট্রাম্পের অন্যান্য পদক্ষেপও বাধাগ্রস্ত করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। যেমন- প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান হতে পারেন নিউইয়র্কের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস। তিনি ইতোমধ্যে রুশ ডিজেলকে আবার বৈশ্বিক বাজারে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঠেকাতে দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করেছেন।
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা
গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের প্রতি ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন অনেক কমে গেছে। এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনের কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা এবং রিপাবলিকানদের সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতাও একটি ‘ফ্যাক্টর’।
ডেমোক্র্যাটরা ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা সীমিত বা বন্ধ করতে পারে। সবশেষ অর্থবছরে তেল আবিবকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।
চলতি বছরের গ্রীষ্মে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দেন। ওই উদ্যোগের বিপক্ষে ভোট দেওয়া কয়েকজন আইনপ্রণেতাও এখন ইসরায়েলকে ভারী বোমার মতো অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বৈদেশিক সহায়তা পুনর্বহাল
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এটি নজিরবিহীন বৃদ্ধি। তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা প্রস্তাবটি আটকে দেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা না করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁটের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এছাড়া, কংগ্রেসের অনুমোদিত বৈদেশিক সহায়তার কয়েক’শ কোটি ডলার আটকে রেখেছেন বা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এ কাটছাঁটে অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, এসব সহায়তার অর্থায়ন আবার চালুর চেষ্টা করবেন।