ভাঙা আঙুল নিয়েই বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মার্টিনেজ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩৯
ডান হাতটি মুষ্টিবদ্ধ করলে এখনও তাঁর একটি আঙুল বাঁকা হয়েই থাকে। বিশ্বকাপে অ্যাডিডাস তাঁর জন্য একটি বিশেষ গ্লাভসও বানিয়ে দিয়েছিল। অনুশীলনে ফুটবলের বদলে হালকা ভলিবল নিয়ে প্র্যাকটিস করতেন। সম্প্রতি আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন ও এস্তেবান এদুলের ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘লস এদুল’-এ খোলামেলা আলোচনায় অজানা অনেক কথাই বলেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ
ইউরোপা লিগের ফাইনালে ইনজুরি পাওয়ার পর আপনার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
এমিলিয়ানো: ইউরোপা লিগের ফাইনালে আমি আমার আঙুলে আঘাত পেয়েছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার পর তারা আমাকে বলল, ‘আপনার আঙুলটি মাঝখান থেকে ভেঙে গেছে।’ তারা আমাকে এক্স-রে ছবি দেখাল। আমি বললাম, না, আমি তো বিশ্বকাপেই যেতে পারব না। আমি কাঁদতে শুরু করলাম। আমার মনে আছে, স্কালোনি আমাকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘তুমি পৌঁছাতে পারো বা না পারো, আমি তোমাকে সমর্থন করব, যে কোনোভাবেই চলে এসো।’
ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপ খেলার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?
এমিলিয়ানো: আমি আর্জেন্টিনা দলের ডাক্তারকে জানালাম এবং আমরা অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি একটি প্লাস্টিকের কাস্ট ও পুরো ব্যান্ডেজ পরে খেলব বলে ঠিক করলাম। আর অ্যাডিডাস আমার জন্য একটি বিশেষ গ্লাভস তৈরি করে দিল।
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুর দিকে আপনার প্রস্তুতি বা অনুশীলন কেমন ছিল?
এমিলিয়ানো: প্রথম কয়েক দিন ভালোই কেটেছিল, প্রথম দুটি ম্যাচ, কারণ আমি অনেক সুরক্ষা নিয়ে খেলছিলাম...। আমি এই হাতটি ঠিকমতো বন্ধ করতে পারি, কিন্তু অন্যটি পারি না। সুইজারল্যান্ডের ম্যাচের আগপর্যন্ত আমি ভলিবল দিয়ে অনুশীলন করতাম। আমরা প্রায় মিসরের কাছে হেরে যাচ্ছিলাম। আর আমি মার্টিন তোকালিকে (আর্জেন্টিনা দলের গোল কিপিং কোচ) বললাম, ‘চলুন, স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করি, সাধারণ বল দিয়ে।’
বিশ্বকাপ শেষে ইনজুরির বর্তমান অবস্থা কী এবং ভবিষ্যতে কি এর জন্য কোনো চিকিৎসা লাগবে?
এমিলিয়ানো: বিশ্বকাপ শেষ হলো, আমি ছুটিতে গেলাম আর আমার আঙুলটি তখনও ব্যথা করছিল। আমি একটি এক্স-রে করলাম এবং দেখলাম, এটি মাঝখান থেকে ভাঙাই আছে। কোনো একদিন ব্যথা কমানোর জন্য আমার অস্ত্রোপচার করাতে হবে।
এই আঙুলের ইনজুরি বিশ্বকাপে আপনাকে মানসিক বা শারীরিকভাবে কতটা প্রভাবিত করেছিল?
এমিলিয়ানো: আলজেরিয়ার ম্যাচের আগে আমি এক হাত নিয়ে এদিক-ওদিক পড়ে যাচ্ছিলাম। আমি একটা জম্বির মতো হয়ে গিয়েছিলাম। মাটিতে হাত রাখা মানেই যেন চোখের সামনে সরষে ফুল দেখতাম। প্রশিক্ষণ শিবিরে আমি কাঁদছিলাম, কারণ আমার আঙুলটা দেখতে একটা সসেজের মতো ফুলে গিয়েছিল।
স্পেন বা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচ এবং পেনাল্টি শুটআউট নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
এমিলিয়ানো: আমরা সবাই সেটাই ভেবেছিলাম। আমি গোলপোস্টে যাওয়ার সময় এমনকি তাদের বলতেও শুনেছিলাম, ‘আমাদের এখানেই ম্যাচ জিতে নিতে হবে। আমরা পেনাল্টিতে যেতে পারি না।’ অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে প্রথম মিনিটেই তারা গোল করে বসল। আমার সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ছিল যে দিনটি আমারই হতে চলেছে। তাদের (স্পেনের) একজন গোলরক্ষক আমাকে এটি বলেছিল এবং জানিয়েছিল, ভাগ্যক্রমে তারা ম্যাচটি জিতেছিল।
বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে চলা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব বা সমালোচনাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এমিলিয়ানো: ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব? এগুলো শুনে আমার হাসি পায়। আমি পুরো বিষয়টি দেখেছি: আমরা ৫১ দিন ধরে ভ্রমণ করেছি। অনেকেই ভেবেছিল, আমরা শুধু বসে বসে মেতে (চায়ের মতো আর্জেন্টাইনদের বিশেষ পানীয়) পান করতাম। ম্যাচটি যদি রাত ৮টায় হতো, হয়তো আমাদের জন্য ভালো হতো। অন্তত আমরা একটা ঘুম দিতে পারতাম...। এটি পুরোটাই ছিল মার্কেটিং, কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এই বিশ্বকাপের যে বিষয়টি আমার একদমই ভালো লাগেনি। এখানে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মধ্যে আমাদের মাত্র তিন দিন সময় ছিল, যার মধ্যে যাতায়াত ও অনুশীলনের সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আজকাল মানুষ সবকিছুই বিশ্বাস করে। কে একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল হারতে চায়? যত টাকাই অফার করা হোক না কেন, তা অসম্ভব।
- বিষয় :
- এমিলিয়ানো মার্টিনেজ
- আর্জেন্টিনা