হামজার জন্য ট্রফি জিততে চান তপুরা
ছবি- সমকাল
সাখাওয়াত হোসেন জয়
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৮ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৪
হয়নি ট্রফি উন্মোচন, যা হওয়ার কথা ছিল টুর্নামেন্টের আগের দিন। ট্রফি আসেনি বলে গতকাল বুধবার রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলে হওয়া দলগুলোর সংবাদ সম্মেলনে হয়নি অধিনায়কদের নিয়ে ফটোসেশন। মাঠের বাইরে অব্যবস্থাপনা নিয়েই আজ শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত টুর্নামেন্ট সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। যে আসর ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা; ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর মিশন। যে মিশনে বৃহস্পতিবারই মাঠে নামছে থমাস ডুলির দল। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায় ভুটানের মুখোমুখি হবে নতুন অধিনায়ক তপু বর্মণের বাংলাদেশ। স্বপ্নের পথচলায় ভুটান পরীক্ষার সামনে দাঁড়ানো বাংলাদেশকে প্রথম ম্যাচ খেলতে হচ্ছে হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলের পোস্টার-বয়কে ছাড়া। সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তপু তো বলেই দিয়েছেন, ভুটানকে হারিয়ে হামজাকে উৎফুল্ল দেখতে চান তারা।
এক বছরের বেশি সময় আগে জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজগালিচায় লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক গোল করেছিলেন হামজা চৌধুরী। ইংলিশপ্রবাসী এই হোল্ডিং মিডফিল্ডার সেই গোলটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৪ জুন, ভুটানের বিপক্ষে। কিন্তু এবারের সাফ ফিফা উইন্ডোর মধ্যে না পড়ায় হামজা ক্লাব ছেড়ে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন আরও পরে। শেফিল্ড ইউনাইটেডের এ তারকাকে ছাড়া ভুটান ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই বটে। কারণ, হামজা পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়ান। প্রয়োজনের সময় যেমন নিচে নেমে আসেন, তেমনি আক্রমণেও নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাঁকে। বলা যায়, হামজা ছাড়া বাকিদের জন্য এটা পরীক্ষায়ই বটে। হামজা না থাকলেও ভুটান-বধে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক তপু।
দলে যোগ দিয়ে হামজা যেন সাফের পরের ম্যাচগুলোতে মসৃণ পথ পায়, সেই ব্যবস্থা তপু করতে চান ভুটানকে হারিয়ে, ‘প্রথমত বলব যে, অনেক মিস করব (হামজাকে)। আসলে তার মতো নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন খেলোয়াড় আমাদের দলে খুবই প্রয়োজন এবং আসলে সে যেভাবে, বিশেষ করে আমাদের গাইড করে, সেটি খুবই বিশেষ কিছু। আমরা আসলে অনেক আগেই জানি, ক্লাব সূচির জন্য সে প্রথম ম্যাচটা খেলতে পারবে না; কিন্তু তার জন্য আমাদের একটা করণীয় থাকবে। সেটি হলো, পথটা যেন সহজ করতে পারি তার জন্য; ভুটানের সঙ্গে আমরা জিততে চাই এবং সে এসে যেন একটা উৎফুল্ল মনোবল নিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকতে পারে।’
হামজার বিপক্ষে খেলার স্বপ্ন ছিল ভুটান অধিনায়ক চেনচো গেলশেনের। সে জন্য আক্ষেপ ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘এবার হামজা না খেলায় আমি খুব একটা খুশি নই। আসলে আমি চেয়েছিলাম হামজা খেলুক। কারণ সবাই জানে, সে আমাদের সাউথ এশিয়ান অঞ্চলের একজন বড় স্টার। ভালো মানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেললে সেটি আমাদের জন্য তাদের কাছ থেকে শেখার একটা ইতিবাচক দিক হয়। আমি মনে করি, আমরা হামজার সঙ্গে খেলতে পছন্দ করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি শুনেছি, সে প্রথম ম্যাচে আসছে না।’
২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থিম্পুতে এই ভুটানের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের দলটি। ১৩ বারের সাক্ষাতে ৯-২-এ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ তাই বেশ সতর্ক। শুধু ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচই নয়, কাগজে-কলমে এবং শক্তির বিচার করলে নিজ আঙিনার সাফে ফেভারিট বাংলাদেশই। কোচ থুমাস ডুলিও মনে করেন, ২৩ বছর পর ঘরের মাঠে সাফ জেতা উচিত বাংলাদেশের, ‘গত ২৩ বছরে হয়তো চাপটা এখনকার চেয়েও বেশি ছিল। আমরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং বিশ্বাস করি, ভালো করতে পারব। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা খেলতে পারি, লড়াই করতে পারি এবং শিরোপা জিততে পারি। এই টুর্নামেন্টে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য।’