ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সবুজ পিচ আর শিশির...

সবুজ পিচ আর শিশির...
×

আলী সেকান্দার, কলকাতা থেকে

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:২৩

কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ ঘিরে যে মহা আয়োজন, তার পুরোটাই দেখভাল করছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। আজ বাদে কালই তো দিবারাত্রির ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ শুরু। আর এই ম্যাচ ঘিরে দুই দেশের বিশিষ্ট অতিথিবরণও তো তাকেই করতে হবে। এই ব্যস্ততার মাঝেই বুধবার ইডেনে সশরীরে এসে পিচের খোঁজ নিলেন তিনি। কিউরেটর সুজন মুখার্জির সঙ্গে কথা বলে জেনে নিলেন খুঁটিনাটি। সৌরভের যখন পিচ নিয়ে এত আগ্রহ, সেখানে বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের কৌতূহল দ্বিগুণ হবে, এটাই স্বাভাবিক। দিবারাত্রির টেস্টের কন্ডিশন কেমন থাকে, তাও তো জানা নেই মুমিনুলদের। এসজি গোলাপি বলে খেলাও নতুন অভিজ্ঞতা। এই জিনিসগুলো মোকাবিলা করার একটাই পথ খোলা, মানসিকভাবে দৃঢ়চেতা হওয়া। কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ইডেনের দিবারাত্রির টেস্টে সমানে পাল্লা দিতে মানসিকভাবে তৈরি হওয়া। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাইরের সব চাপ একপাশে রেখে স্বাগতিকদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিতে নিজেদের সব দিক থেকে প্রস্তুত করেছেন তারা। অপেক্ষা করছেন ২২ গজের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার।

মুশফিকুর রহিম বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ইডেনে খেলেছেন। ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে সুপার টেনে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজ, আল-আমিনদেরও। কিন্তু কথা হলো, টি২০ ম্যাচের উইকেট আর টেস্টের উইকেট তো এক নয়। এই তিন বছরে ইডেনের চরিত্রও বদলে গেছে অনেক। আর টি২০ বিশ্বকাপের উইকেট দেওয়া হয়েছিল আইসিসি থেকে। টেস্টের উইকেট গড়া হয়েছে বিরাট কোহলিদের পছন্দে স্বাগতিক কিউরেটরের হাতে। সেদিক থেকে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচে ইডেনের কন্ডিশন সম্পূর্ণ অচেনা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কাছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় খেলা শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রতিটি সেশনেই একেকটি সময়ের ধাপ অতিক্রম করতে হবে খেলোয়াড়দের। ম্যাচ শুরু হবে দুপুরের ঝা-চকচকে রোদে। দেড় সেশনের মাথায় গোধূলির লাল আলোয় মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। গোলাপি বলটা তখন কেমন দেখায়, ব্যাটসম্যানরা তো জানেন না। সন্ধ্যা নেমে এলে ফ্লাডলাইট জ্বালানোর সময়টাও তো কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আর সূর্যের আলো পড়ে গেলে দেখা দেবে শিশিরের প্রভাব। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বিকেল থেকেই শীতের হাওয়া বয় গঙ্গার ধারে। স্রোতস্বিনী গঙ্গা থেকে ধোঁয়ার মতো জল উড়ে গিয়ে মেশে হওয়ায়। সে জলই শিশির হয়ে ঝড়ে কলকাতা শহরে। আর ইডেন তো কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে। শিশিরে ভেজা গোলাপি বলে ব্যাট বা বল করা কতটা চ্যালেঞ্জের, ২২ নভেম্বর ম্যাচের প্রথম দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তা জানতে। দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচ নিয়ে যত রোমাঞ্চই থাকুক না কেন, এ জিনিসগুলো একটু হলেও ভাবাচ্ছে টাইগারদের। মুক্তির পথ ওই একটাই, মানসিকভাবে শক্ত থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জি জানালেন, ইডেনের টেস্ট ম্যাচের উইকেট স্পোর্টিং করেছেন। ব্যাটসম্যান এবং বোলাররা সমান সুবিধা পাবেন এ কন্ডিশন থেকে। স্পোর্টিং পিচের কথা শুনলেই তো টাইগার ব্যাটসম্যানদের শরীর হিম হয়ে যাওয়ার কথা। ইন্দোরে হলকার স্টেডিয়ামের স্পোর্টিং পিচে স্বাগতিক পেসারত্রয়ী পাঁচ দিন আগেই যে তা ব চালিয়েছে, এত দ্রুত তা ভোলার নয়। ইডেনের সবুজ উইকেটে গোলাপি বলের সুইং না কত ভয়ংকর। যদিও কিউরেটর সুজন আশার বাণী শোনালেন, 'আমার উইকেট স্পোর্টিং হয়। তিন বছর ধরে এখানে সবার জন্য সহযোগিতা থাকে। আমি সে রকম উইকেট বানিয়েছি, যাতে সবার জন্য কিছু থাকে।' সন্ধ্যার শিশির নিয়েও আশার কথাই বলেছেন তিনি। জানালেন গত তিন দিন তেমন একটা শিশির দেখেননি মাঠে। আর শিশিরের অ্যান্টিডিউ স্প্রেও করেছেন নিয়মিত। আসলে গোলাপি বলে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচের অনভিজ্ঞতাই যেখানে বড় বাধা, সেখানে কিউরেটরের আশার বাণী শুনে খেলোয়াড়রা কতটা আশ্বস্ত হবেন কে জানে।

আরও পড়ুন

×