বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আসবেন ঢাকায়
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ সৌরভ
ছবি: ফাইল
আলী সেকান্দার, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:১৫
ভেঙ্কটেশ প্রসাদকে নিয়ে বিরাট কোহলির ব্যাটিং দেখছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ভারত অধিনায়কের সেঞ্চুরি ইনিংসটাকে মাঠে বসে উপভোগ করলেন। গোলাপি বলে ভারতের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হলেন। মধ্যাহ্নভোজ সেরে ভিআইপি বক্স থেকে বেরিয়ে খেয়াল করলেন, দুই বাংলার সাংবাদিকরা অপেক্ষমাণ। বুঝে গেলেন, তার জন্যই এই অপেক্ষা। দোতলায় সিএবির অফিসকক্ষের দিকে পা বাড়ানোর আগে বললেন, 'দুই মিনিট দাও। ফিরেই কথা বলব।' সৌরভ কথা বললেন বাংলাদেশ নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ইডেনের দিবারাত্রির টেস্টে প্রধান অতিথি হওয়ায়। প্রতিশ্রুতি দিলেন ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার।
বিসিসিআই সভাপতি হওয়ার পরই কলকাতা টেস্ট ম্যাচকে গোলাপি বলে দিবারাত্রি করার উদ্যোগ নেন সৌরভ। বিসিসিআই থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হলে দিবারাত্রির ম্যাচ খেলতে রাজি হয় বিসিবি। শুধু দিবারাত্রির টেস্ট পেয়ে তৃপ্ত থাকেননি বিসিসিআই সভাপতি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করার উদ্যোগ নেন। বিসিবির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর ইডেনের অনুষ্ঠানে আসা নিশ্চিত করেন। গতকাল ইডেনে সৌরভ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, 'উনাকে আমার অনেক অনেক ধন্যবাদ। এককথায় উনি এসেছেন। অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞ।'
বাংলাদেশ অভিষেক টেস্ট খেলে ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে। সৌরভ ছিলেন সে ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক। টেস্ট অভিষেক ম্যাচের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌরভ জানান, সেই থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা মনে রেখেছেন তাকে, 'আমার সঙ্গে উনার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ২০০০ সালে যখন প্রথম বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া টেস্ট ম্যাচ হয়, তখন উনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন থেকে উনার সঙ্গে আমার পরিচয়।'
এ সম্পর্কের ভিতটাকে আরও কিছুটা মজবুত করলেন কলকাতায় দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীকে এনে। সৌরভের আমন্ত্রণেই তো প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় এসেছিলেন ২২ নভেম্বর দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচের উদ্বোধন করতে। খেলার পাশাপাশি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানও রেখেছিল সিএবি। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় এসে দুপুর পৌনে ১টায় ইডেনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচয়পর্ব সেরে দুপুর দেড়টায় ইডেনের ঘণ্টি বাজিয়ে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শেখ হাসিনাই প্রথম বাংলাদেশি, ইডেনের টেস্ট ম্যাচের ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টি বাজালেন। দিনের খেলা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং সংবর্ধনা মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
সৌরভ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো ফ্রেমে বঙ্গবন্ধুর ছবি উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতেও যোগ দেবেন বলে জানান সৌরভ। ২০২০ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছর মার্চে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে। এ জন্য দেশের ক্রীড়াঙ্গন ব্যাপক আয়োজন রেখেছে। এই মাসে বিপিএল টি২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯। পরের বছর মার্চে দুটি আন্তর্জাতিক টি২০ টুর্নামেন্ট করা হবে। এই খোঁজখবরগুলোও রাখেন সৌরভ, 'জানি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তোমাদের তো অনেক বড় উৎসব হবে ওখানে। দুটো ম্যাচও খেলবে বিশ্ব একাদশ ও এশিয়ান একাদশের সঙ্গে। আমি যাব। অবশ্যই যাব।'
২২ নভেম্বরের কলকাতার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট দলের খেলোয়াড়দেরও নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা পেয়েছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়রাও। প্রথম টেস্ট দলের প্রসঙ্গ উঠতেই নস্টালজি হলেন সৌরভ, 'তোমাদের প্রথম টেস্ট দলের সবাই খুব খুশি। ওরা অনেক ভালো খেলেছিল ওই টেস্ট ম্যাচে। ৪০০ করেছিল প্রথম ইনিংসে।' বর্তমান টেস্ট দলের কাছে আরেকটু ভালো পারফরম্যান্স আশা করেছিলেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক, 'ভালো খেলতে হবে তো। বেশি বেশি টেস্ট খেলতে হবে।' এই অনুষ্ঠান সফল করতেই গত কয়েকটা দিন ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন সৌরভ। একটা চ্যালেঞ্জ ছিল আয়োজন সফল করা। সেটা করতে পেরে খুশি তিনি।
