এক রাত, অনেক সমীকরণ
ছবি: স্পোর্টস
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০১৯ | ০২:৪৭
আবারও বাজল চ্যাম্পিয়নস লিগ ঘণ্টা। নিয়মিত লিগ আর আন্তর্জাতিক ফুটবল হয়ে সামনে হাজির ইউরোপিয়ান লড়াই। যে লড়াইয়ে একদিকে থাকবে স্পেন, আরেক দিকে আবার ইতালি-ফ্রান্স। যে লড়াইয়ে একপাশে থাকবে দুই মাদ্রিদ, আরেক পাশে দুই দেশের জায়ান্ট ক্লাব। অবশ্য আরও কয়েকটি ম্যাচের ফয়সালাও হবে এই রাতে। তবে আগুনে লড়াই দেখার অপেক্ষায় চারটি ক্লাবের সমর্থকরা।
যেখানে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদ আতিথেয়তা দেবে ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে। আরেক প্রান্তে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ অতিথি হয়ে যাবে ইতালির নাম্বার ওয়ান টিম জুভেন্তাসের মাঠে। সাদা চোখে বিষয়টা এমন হলেও রয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ, পুরোনো প্রতিশোধ, নতুন প্রত্যাশা কিংবা ভবিষ্যতের এগিয়ে যাওয়ার পথ।
রোনালদো আর মাদ্রিদ
স্পেনের ক্লাব মানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পরিচিত। রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালে যাদের সঙ্গে সিআর সেভেনের দেখা হতো প্রায়। তাদেরই এক দল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ যাবে রোনালদের মাঠে খেলতে। আরেকটা কারণে এই অ্যাথলেটিকোর সঙ্গে রোনালদোর নামটা নিতে হয়। এই চ্যাম্পিয়নস লিগে যখন জুভেন্তাস স্পেনে খেলতে যায়, তখন রোনালদোকে শুনতে হয়েছে দুয়ো। একটা ম্যাচে আবার পর্তুগিজ তারকা দর্শককে জবাব দিয়েও আসেন। পাঁচ আঙুল দেখিয়ে বুঝিয়ে দেন, তার চ্যাম্পিয়নস লিগের পাল্লাটা কেমন ভারী। এ নিয়ে অবশ্য আলোচনা কম হয়নি।
খোদ অ্যাথলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে কথা বলেন। এসব দিক থেকে আজকের জুভেন্তাস-অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ম্যাচটি বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করছে। তবে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে দুই দলের জন্যই জয়টা গুরুত্বপূর্ণ। পরের রাউন্ডে যেতে হলে অ্যাথলেটিকোর তো কোমর বেঁধে নামার কথা। যদিও অতীতটা খুব বেশি সুখকর নয় মাদ্রিদের ক্লাবটির। সর্বশেষ এ বছরের মার্চে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অতিথি হয়ে যায় অ্যাথলেটিকো। সে ম্যাচ তারা হেরেছিল ২-০ ব্যবধানে। তারও আগে ২০১৪ সালে এই জুভদের মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরা হয়নি অ্যাথলেটিকোর।
'প্রিয়'রা যখন অপ্রিয়
রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে খেলতে আসবেন নেইমার আর এমবাপ্পে। যে দুই তারকার জন্য রিয়াল কম দৌড়ায়নি। নেইমারের কথায় আসি, ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন যখন বার্সায় দেওয়ার কথা বলে, তখন রিয়াল খুব করে চেয়েছিল তাকে নিজেদের ডেরায় আনতে। কাতালানদের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থও ঢালতে চায় তারা। কিন্তু নেইমারের দ্বিমত থাকায় আর হলো না। তবু আশা ছাড়েনি রিয়াল। ক'দিন আগেও প্যারিস থেকে নেইমারকে আনতে উঠেপড়ে লাগে। সেইসঙ্গে এমবাপ্পের নামও শোনা যায়। এ নিয়ে জিদানও কথা বলেন। আবার জিদানকে কথা শোনান পিএসজির স্পোর্টিং ডিরেক্টর। গতকাল ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনেও এই এমবাপ্পেকে নিয়ে কথা বলেছেন জিজু, 'আমি কিলিয়ানকে অনেক পছন্দ করি।' তাতে উত্তাপটা বোধ হয় আরেকটু বেড়ে গেল। আজ রিয়ালের ওই দুই 'প্রিয়' খেলোয়াড়ই হয়তো তাদের জন্য হবে বড় বাধা।
পুরোনো ঘরে নতুন মুখ
যে কেইলর নাভাস ছিল রিয়াল মাদ্রিদের এক নম্বর গোলকিপার; লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সিতে কত উল্লাস করেছেন, কত উদযাপনে মেতেছেন; এবার সেই নাভাসই হবেন রিয়ালের শত্রু। ফরাসি ক্লাবের হয়ে গ্লাভস হাতে নামবেন চেনা বার্নাব্যুতে। যার জন্য তিনি হলেন ঘরছাড়া, সেই কর্তোয়া নামবেন নাভাসের বিপরীতে। এ যেন লড়াইয়ের ভেতর অন্য লড়াই।
প্রতিশোধের আগুন
চ্যাম্পিয়নস লিগের গত আসরে এই রিয়ালের কাছে ধরাশায়ী হয় পিএসজি। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে রিয়ালের মাঠে ৩-১ ব্যবধানে হার মানে ফরাসিরা। ফিরতি লেগে সেই রিয়ালই জয় পায় ২-১ গোলে। তাতে নকআউটে শেষ হয় পিএসজির স্বপ্ন। যদিও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গ্রুপ পর্বে দাঁড়িয়ে দু'দল। তারপরও অতীতের ক্ষতটা এত সহজে কী আর ভুলবে পিএসজি। এরই মধ্যে যদিও একটা ঝলক দেখিয়ে দিয়েছে তারা। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসে খেলতে যায় রিয়াল। সে ম্যাচে জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পিএসজি।