অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের সন্দেহে ছিলেন কোচরাও
ছবি: ফাইল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০১:৫০
বিসিবি অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের কড়া নজরদারি এবং নিয়ম ভেঙে স্পন্সরদের তথ্য দেওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করেও বিতর্ক থেকে দূরে রাখা যায়নি সিলেট থান্ডারকে। বরং মঙ্গলবার কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ খেলে অধিনায়ক আন্দ্রে ফ্লেচার ড্রেসিংরুমের কিছু বিষয় বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে জানিয়ে গেছেন বলে গুঞ্জন আছে। যদিও সিইও জানান, ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন এ ক্যারিবিয়ান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্পন্সরদের সঙ্গে কয়েকজন ক্রিকেটারের ঘনিষ্ঠতা, ড্রেসিংরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বেশ কিছু ইস্যুতে বিসিবির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটকে জানান ফ্লেচার।
বঙ্গবন্ধু বিপিএল মাঠে গড়ানোর আগেই বিতর্কে জড়িয়েছিল সিলেট থান্ডার। একজন শ্রীলংকান ক্রিকেটারের এজেন্ট দলটির স্পন্সরের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ দেয় আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের কাছে। বিসিবির সিইও এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রাক-টুর্নামেন্ট ইস্যুর কারণেই প্রতিটি দলের সঙ্গে একজন করে অ্যান্টিকরাপশন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে সিলেটের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রিসমার সানতোকির সন্দেহজনক নো এবং ওয়াইড নিয়ে বিতর্ক হলে তদন্তে নামে বিসিবির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিট। যদিও সিলেটের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সানতোকিকে নির্দোষ ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
সিলেটের এই ক্যারিবীয় পেসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের প্রধান মেজর (অব.) হুমায়ুন মোর্শেদ কোনো সুপারিশ দেননি বলে জানিয়েছিলেন সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী। অথচ সিলেটের টিম ডিরেক্টর তানজিল চৌধুরী কিছু বিষয়ে নোটিশ করেছিলেন। পরে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারও করে নেন তিনি। গতকাল সিলেটের স্থানীয় কোচদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিসিবির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিট প্রধান হুমায়ুন মোর্শেদ কড়া নজরদারিতে রেখেছিলেন তাদের। সন্দেহ হওয়ায় একজন কোচের মোবাইল ফোনও চেক করা হয়। আল আমিন নামের এক সন্দেহভাজন বুকি তার ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় থাকায় তাদের কথোপকথন খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
সিলেট পর্বে সিলেট ও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের টাই হওয়া ম্যাচে স্পন্সরকে সুপার ওভার-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে স্থানীয় এক সিনিয়র কোচকে। কারণ দর্শানো নোটিশের জবাবও দিয়েছেন ওই কোচ।
সিলেটের এক কোচ বুধবার সমকালকে জানান, অধিনায়ক ফ্লেচারের বিসিবি সিইওর কাছে রিপোর্ট করার বিষয়ে জানেন না তিনি। তবে ফ্লেচারের কাছে সিইওর সঙ্গে আলাপের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি গোপনীয় বলে এড়িয়ে গেছেন শেষদিকে নিয়মিত অধিনায়কত্ব করা এই ক্যারিবীয়। এ ব্যাপারে বিসিবির সিইও মিডিয়াকে বলেছেন, 'ফ্লেচার এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সে ব্যাপারেই কথা বলতে এসেছিল। সব শুনে আমরা সমাধান করে দিয়েছি। এ ছাড়া তেমন কিছু নয়।'
তবে বিসিবির কাছে ফ্লেচারের অভিযোগ সম্পর্কে এক সিনিয়র কোচ বলেন, 'তার কোনো কিছু সন্দেহ হলে সেটা সে বলতেই পারে। সেটা টুর্নামেন্ট শেষে কেন? যখন সন্দেহ হয়েছে, তখনই জানানো উচিত ছিল। টুর্নামেন্টের অ্যান্টিকরাপশন কোডে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। এ ছাড়া কোনো কিছু হয়ে থাকলে অধিনায়ক হিসেবে সেও দোষী। জীবন মেন্ডিসকে বোলিং না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধেও তো কথা উঠেছে। সেও তো সন্দেহের বাইরে নয়।' সিলেটের স্পন্সর ছিল জীবানি ফুটওয়ার গ্রুপ। বিসিবির কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকায় স্বত্ব কেনে তারা। এ ছাড়া দুটি সাব-স্পন্সর ছিল ১২ ম্যাচের ১১টিতে হেরে যাওয়া দলটির।
