ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইরানে আগ্রাসনের খবরে শেয়ারবাজারে বড় পতন

ইরানে আগ্রাসনের খবরে শেয়ারবাজারে বড় পতন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৩

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে  সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তার নিহত হওয়ার খবরে ব্যাপক দর পতন হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারে। শনিবার সকালের এ হামলার খবরে গতকাল রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৮৯ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৩৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৪৬১ পয়েন্টে নেমেছে। সূচক পতনের হার আড়াই শতাংশ। গতকাল সূচকের পতন সর্বশেষ প্রায় ১০ মাসের সর্বোচ্চ।

অন্যতম ব্রোকারেজ হাউস প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করায় পতন হয়েছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানির প্রায় ২৭ শতাংশ পরিবহন হয়। এই পথ বন্ধ থাকলে সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেলের ব্যবসায় ধস নামবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে। এ চাপ নেওয়ার ক্ষমতা বিশ্বের নেই। ফলে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধটি থামবে বলে মনে হয়। ফলে বড় আতঙ্কের কারণ আছে বলে তিনি মনে করেন না। 

ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠনণ ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন– এই পতন আবারও প্রমাণ করল ঢাকার শেয়ারবাজার চরমভাবে আতঙ্কনির্ভর। ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী এ বাজারে নেই। এটি  বাজারের মৌলিক দুর্বলতা।

ডিবিএ সভাপতি বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ বা সঠিক ‘অ্যানালাইসিস’ ছাড়াই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে শেয়ার বিক্রি করে থাকেন। আতঙ্ক কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞদের গণমাধ্যমে এসে যে ধরনের আলোচনার দরকার ছিল, তাও নেই। 

সাইফুল ইসলাম বলেন, এ  ধরনের অবস্থায় বিশ্বব্যাপী মিউচুয়াল ফান্ড শেয়ার কিনে ‘গার্ড’ বা ঢাল হিসেবে কাজ করে। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ বাজার-সংশ্লিষ্ট সবার ব্যর্থতায় এ খাত গড়ে ওঠার আগে ধ্বংস হয়েছে। খাতটি নতুন করে গড়ার চেষ্টাও নেই। বাজারকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং দক্ষ বাজার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই– মন্তব্য তাঁর।

যুদ্ধ হলেই পতন হয় শেয়ারবাজারে 

যুদ্ধ কোথায় শুরু হলো বা এর প্রভাব বাংলাদেশে কতটা– তা বোঝার আগেই পতন শুরু হয় শেয়ারবাজারে। এমনটাই হয়ে আসছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল গত বছরের ১৩ জুন ইরানে ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর। ওই আগ্রাসনের পর উল্টো প্রথম দুই দিন ডিএসইএক্স সূচক ৭৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। তৃতীয় দিনে সূচকটি হারিয়েছিল প্রায় ৪৪ পয়েন্ট। যদিও ওই সময় বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় দর পতন হয়েছিল।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে গত বছরের ৭ মে শেয়ারবাজার সূচকের ব্যাপক পতন হয়। যদিও ওই যুদ্ধের কারণে দেশের বা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বা অর্থনীতিতে বড় বিরূপ পড়ার কারণ ছিল না। তবু ডিএসইএক্স সূচক যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ১৪৯ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ হারায়। 

এর আগে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর লাগাতার দর পতন হয়েছিল। তবে লেনদেনের মাঝে গতকালের (২২৩ পয়েন্ট) তুলনায়ও বেশি পতন হয়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের খবর প্রকাশের পর। 

গতকালের চিত্র

গতকাল দিনের শেষে সূচকের পতন ১৩৮ পয়েন্ট দেখালেও লেনদেন শুরুর পরের পতন হছিল আরও বড়। সকাল ১০টায় দিনের লেনদেন শুরুর প্রথম মুহূর্তে ডিএসইএক্স ১৭০ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ হারিয়ে ৫৪৩০ পয়েন্টে নেমেছিল। পরের মিনিটে সূচকটি ২২৩ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ হারিয়ে ৫৩৭৫ পয়েন্ট পর্যন্ত নামে। এ সুযোগে কেউ কেউ শেয়ার কিনলে বেলা সাড়ে ১১টায় সূচকটি ৫৫১৮ পয়েন্টে ওঠে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুরুর বিক্রির চাপ এবং সুযোগে কারও কারও শেয়ার ক্রয়ে প্রথম ঘণ্টায় ৩৪৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়। আগের কর্মদিবসে প্রথম ঘণ্টায় ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। অবশ্য পুরো দিনে কেনাবেচা হয় ৭৭৫ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের তুলনায় ১৭২ কোটি টাকা কম।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বড় খাতগুলোর মধ্যে বীমা এবং বস্ত্র খাতের ১১৬ কোম্পানির গড়ে সোয়া ৩ শতাংশ হারে দর পতন হয়েছে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে কাগজ এবং ভ্রমণ খাতের ১০ কোম্পানির গড়ে পৌনে ৪ শতাংশ পতন হয়েছে। তবে ব্যাংক খাতের আড়াই শতাংশ পতনে সূচক হারায় ৪৭ পয়েন্ট। 

আরও পড়ুন

×