সিলেটে চামড়ার ন্যায্যমূল্য ও বকেয়া নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
ছবি: সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬ | ২১:৪১
এবারের কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সংগ্রহে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। তৃণমূলে নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে চামড়া হাতবদল হলেও, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে অতীত পাওনা আদায় না হওয়া এবং বর্তমান দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতিটি গরুর চামড়া আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে কিনছেন। ট্যানারি মালিকদের অবস্থান কী হবে, সেটা দেখার বিষয়। অতীতে নানা অজুহাতে চামড়ার দাম দেয়নি এবং ক্রয়ও করেনি।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামের ধারেকাছেও চামড়ার দাম মিলছে না। তৃণমূলে কেউ দিচ্ছেন বিনামূল্যে, কেউবা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করছেন চামড়া। সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে পাওনা টাকা উদ্ধার না হওয়ায় আবার নতুন করে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হবে কি না, সেই বিষয়টিও তাদের ভাবাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কোরবানির পর নগর এলাকা থেকে প্রায় ৪০-৫০ হাজার এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আরও ৩০-৪০ হাজার চামড়া সংগ্রহ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের প্রধান চামড়া সংগ্রহকারী সংগঠন শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য মো. শাহজাহান।
তিনি সমকালকে জানান, ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করছেন। কিন্তু দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা, গোয়াইনঘাট উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় চামড়া সংগ্রহ খুব কম। অনেক পশু কোরবানিদাতা তাদের পশুর চামড়া হয় কাউকে দিয়ে দিয়েছেন, না হয় নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করছেন।
ঈদের কয়েক দিন আগে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসকের সহায়তায় তারা এবার শেষ মুহূর্তে চামড়া সংগ্রহ করছে। কওমি মাদ্রাসার কাছ থেকে অধিকাংশ চামড়া সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর কেওয়াপাড়ার বাসিন্দা শাহীন আহমেদ জানান, তিনি তার পশুর চামড়া দরগাহ মাদ্রাসায় দান করবেন। কেউ না এলে পৌঁছে দেবেন।
চামড়া সংগ্রহকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ চামড়াই তারা নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করেছেন। যাতায়াত খরচসহ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি পিস বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক ও সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বিভিন্ন স্থানে গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে জমা করে রাখা হচ্ছে। পরে পিকআপ ও অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছে।
প্রান্তিক মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ২০ থেকে ৫০টি করে চামড়া সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকেও ব্যবসায়ীরা সরাসরি চামড়া কিনছেন।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, এবারের চামড়া সংগ্রহ ভালো হচ্ছে। ফেলে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসাগুলো সংগ্রহ করেছে। ব্যবসায়ীরাও তাদের কাছ থেকে কিনছেন। পর্যাপ্ত লবণ দেওয়া হয়েছে। আমরা চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে চাই।
