যেসব ক্রিয়েটর সবার আগে গুরুত্ব পায়
মুস্তাফা তৌহিদ
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫৪
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে অবাস্তব সব দৃশ্যপট সামনে আসছে। যেন কিছুতেই বিশ্বাস হতে চাইবে না এসব ভিডিওর সত্যতা। আদতে তাই, ওই সব মিথ্যা ভিডিওচিত্র। সবই তৈরি হয়েছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) কলাকৌশলে।
ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে এআই নির্মিত বানর। বান্দর আপনা দোস্ত নামে ইউটিউব চ্যানেলে এসব ভিডিও প্রকাশ করেছে। চ্যানেলের ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে। রিপোর্ট বলছে, এমন এআই কনটেন্ট থেকে বছরে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা আয় সম্ভব হয়েছে। এ আয় শুধু ইউটিউব বিজ্ঞাপন থেকেই এসেছে।
এমন ঘরানার কনটেন্টকে বলা হচ্ছে এআই শপ। এখানে ক্রিয়েটরদের মুখাবয় প্রদর্শন করেন না। ভিডিওজুড়ে থাকে এআইর তৈরি চরিত্র, গল্প ও দৃশ্য। অনেক ভিডিওচিত্রে কোনো কথাও থাকে না। শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও ভিজ্যুয়াল দিয়ে গল্প, ইতিহাস, বহুল আলোচিত ঘটনা বা বরেণ্য ব্যক্তির জীবনকাহিনি সাজানো হয়।
ভিডিও এডিটিং প্ল্যাটফর্ম ক্যাপউইঙ্গের রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের ১৫ হাজার জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলের মধ্যে ২৭৮টি পুরোপুরি এআই শপ কনটেন্ট নির্মিত। এসব চ্যানেলের ভিউ ছয় হাজার কোটির বেশি। সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ২২ কোটি ছাড়িয়েছে।
সারাবিশ্বে এই নতুন ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক তরুণ-তরুণী, যারা ক্যামেরার সামনে আসতে চান না, তারা এখন কৃত্রিম মেধার (এআই) ব্যবহার করে ভিডিওচিত্র নির্মাণ করছেন। ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং সংস্থার মুখপাত্র বলেন, অনেকে বেশ সৃজনশীল। কিন্তু ক্যামেরার সামনে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তাদের জন্য এআই নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
এআই ভিডিও তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়। মাত্র এক মিনিটের ভিডিওচিত্র তৈরি করতে অনেক সময় শতাধিক বা তারও বেশি দৃশ্য তৈরি করতে হয়। এরপর সেসব থেকে নির্বাচিত অংশ খুঁজে ভিডিও তৈরি করতে হয়। অনেক সময় একটি ভিডিও নির্মাণে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যায়।
উল্লিখিত চ্যালেঞ্জকে পাশ কাটিয়ে সম্ভাবনার অন্য ভুবনে বিচরণ করছে এআই। এর আগে একটি ভিডিও তৈরিতে বড় টিম, ক্যামেরা ও সফটওয়্যার প্রয়োজন হতো। আর এখন আগ্রহীরা একাই পুরো ভিডিও তৈরি করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম দ্রুত কনটেন্ট আপলোড করা ক্রিয়েটরদের সবার আগে গুরুত্ব দেয়। এআই এই কাজ অনেকটাই সহজ করেছে। ফলে উদীয়মান অনেক নতুন ক্রিয়েটর দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আজ এআই শুধু প্রযুক্তি নয়; এটি নতুন সুযোগ। অচেনা শহর আর গ্রাম থেকেও আগ্রহীরা এখন সারাবিশ্বের দর্শকের দৃশ্যপটের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন।
অনেক তরুণ এখন এআইর সহায়তায় নিজের কল্পনার জগৎ বিনির্মাণ করছেন। এমন পরিবর্তন ভবিষ্যতের কনটেন্ট তৈরির ধারণা বদলে দিয়েছে। নিজেকে ক্যামেরায় আড়াল করে, শুধু আইডিয়া ও কারিগরি কৌশল রপ্ত করেই এখন আর্থিকভাবে সফল ও জনপ্রিয় হওয়া সম্ভব। এআই এখন শুধু ভাষাগত যন্ত্র নয়, এটি নতুন প্রজন্ম তৈরির সারথি।
- বিষয় :
- ভিডিও
