ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইন্টারনেট লাগবে না অ্যাপ চলবে ব্লুটুথেই

ইন্টারনেট লাগবে না অ্যাপ চলবে ব্লুটুথেই
×

জ্যাক ডরসি

মুস্তাফা তৌহিদ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১২:২১

ইন্টারনেট ছাড়াই করা যাবে মেসেজ। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। এই মেসেজ কিন্তু এসএমএস নয়; টেলিগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ঠিক যেভাবে মেসেজ করা হয়, সেই কাজটাই করবে নতুন অ্যাপ। এতে ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না। সবটা শুনে সত্য মনে নাও হতে পারে। সংশয় আসা স্বাভাবিক। কিন্তু আদতে এটা সত্যি। এমনই অ্যাপ তৈরি করেছেন এক্সের (সাবেক টুইটার) সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি। বহুল আলোচিত নতুন এই অ্যাপের নাম বিটচ্যাট। ব্লুটুথ সংযোগে চলবে এই অ্যাপ।

অনেকের মনে প্রশ্ন আসছে, ঠিক কীভাবে কাজ করবে এই অদ্ভুত অ্যাপ। সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং অ্যাপের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কিন্তু বিটচ্যাট চলবে সম্পূর্ণ অন্যভাবে। ব্লুটুথ হলেই এই অ্যাপ কাজ করবে। মূলত অ্যাপটি কাজ করবেপিয়ার-টু-পিয়ার মডেল তত্ত্বের অনুসারে।
নির্মাতারা বলছেন, নির্দিষ্ট ডিভাইস থেকে আরেকটি ডিভাইসে ব্লুটুথ ব্যবহার করে বার্তা পাঠানো যাবে। এটি গ্যাজেট সেন্ডিং ও রিসিভিং পদ্ধতিতে কাজ করবে।

কীভাবে জানা যাবে, কাকে এই মেসেজ পাঠানো যাবে– সেসব তথ্য রয়েছে। ডরসি কারিগরি ব্যাখ্যায় বলেছেন, নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে থাকা দুজন বা একাধিক জন বিটচ্যাট ব্যবহার করে বার্তা বিনিময় করতে পারবেন।

ব্লুটুথ সার্চের সময় জোন বা ফ্রিকোয়েন্সি ডিভাইসে পাওয়া যায়। তার মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ বেছে নিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। একে পিয়ার-টু-পিয়ার প্রযুক্তি বলে। এসব মডেল মেনেই কাজ করবে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম।

কতটা পরিধি হবে এর, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। ব্লুটুথ সাধারণত ১০০ মিটার পরিধিতে কাজ করে। কিন্তু এই অ্যাপের পরিধি

৩০০ মিটার পর্যন্ত কাজ করবে। ইন্টারনেট ছাড়া এতদূর বার্তা পাঠানোর কোনো পাবলিক মাধ্যম এখনও সেভাবে নেই। তাই সেদিক থেকে বিটচ্যাট বিশেষত্বের কথাই বলছে। বিটচ্যাটে আবার চ্যাট রুমের অপশনের সুবিধাও থাকছে।

অর্থাৎ অন্য চ্যাটিং পরিষেবার মতো এতে চ্যাট রুম খুলে অনেকে একসঙ্গে বসে চ্যাট করার সুবিধা নিতে পারবেন। তাই পরিবার ও বন্ধুর জন্য আলাদা চ্যাটরুম তৈরি করা যাবে। এতে বার্তালাপ বিনিময় হয়ে বিশেষ ব্লুটুথ ক্লাস্টার তৈরি হবে। এতে ক্রমে যোগ দেবেন আগ্রহীরা। অনেকে চ্যাট ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন; কিন্তু কথা চলতেই থাকবে। অ্যাপটি এই মুহূর্তে পরীক্ষামূলক ধাপে রয়েছে। দ্রুতই এটি ব্যবহার করতে পারবেন আইফোন গ্রাহকরা। অনেকে হয়তো ভাবছেন, এই অ্যাপটি তেমন একটা কাজের হবে না। কিন্তু অনেকে আবার অন্য কথা ভাবছেন। এর মধ্যে বিশেষ কলাকৌশল রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে এখন যুদ্ধের দামামা। অনেক দেশে চলছে জরুরি অবস্থা। অনেক দেশে আবার পান থেকে চুন খসলেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ইন্টারনেট ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে এই অ্যাপটি বেশ সময়োপযোগী উদ্ভাবন। জরুরি পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট বা ইলেকট্রিসিটি বন্ধ থাকলে যোগাযোগ একেবারে ভেঙে পড়ে। এমন ভাবনা থেকেই অ্যাপ তৈরির সূত্রপাত।

আরও পড়ুন

×