ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চ্যাটজিপিটি নিয়ে দ্বৈত লড়াই করছে ক্লড

চ্যাটজিপিটি নিয়ে দ্বৈত লড়াই করছে ক্লড
×

সাদি সাবেরিন

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৩৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে বহুল প্রচলিত দুটি নাম হলো ওপেনএআইর চ্যাটজিপিটি ও অ্যানথ্রোপিকের ক্লড। অনেকেই পড়াশোনা বা দাপ্তরিক কাজে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। কিন্তু বেশির ভাগ গ্রাহকই হয়তো জানেন না, এ দুটি বৃহৎ এআই শক্তির মধ্যে রয়েছে অদৃশ্য তীব্র লড়াই।

কিছুদিন আগে ওপেনএআইর মুখ্য রাজস্ব কর্মকর্তা ডেনিস ড্রেসার সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে সারাবিশ্বে শোরগোল পড়ে গেছে।

চলতি অর্থবছরে অ্যানথ্রোপিক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার মুনাফা করেছে। কিন্তু ওপেনএআইয়ে ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে, আদতে সংখ্যাটি তিন হাজার কোটি নয়; প্রকৃত হিসাবটা ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার হবে। অ্যানথ্রোপিকের মতো এত বড় সংস্থা কেন তাদের হিসাবে ৮০০ কোটি ডলার বাড়িয়ে প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ডেনিস ড্রেসার।

ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে, ওপেনএআইর চলতি অর্থবছরে মুনাফা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। সম্ভবত ওপেনএআইকে প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলতে গোপনে গবেষণা করছে অ্যানথ্রোপিক। ওপেনএআইর ডেনিস ড্রেসার এখানেই থেমে থাকেননি; বরং অ্যামাজন ও গুগলের সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের অংশীজন নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন।

ডেনিস ড্রেসার অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা বিষয়ে অভিযোগ করে বলেছেন, অ্যানথ্রোপিকের পুরো মডেলটি ডেটা সেফটি রেস্ট্রিকশন। তাদের মডেলটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এআই প্রযুক্তিটি কিছু ক্ষমতাশীল ব্যক্তির হাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। ওপেনএআইর ফাঁস হওয়া তথ্যে সারাবিশ্বে বইছে সমালোচনার বৈরী হাওয়া। পুরো এআই জগৎ যেন বিভাজিত। রয়েছে দ্বিধাবিভক্তি।

অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এসব ফাঁস হওয়া তথ্য আদতে ওপেনএআইর বিশেষ কৌশল হতে পারে। কারণ, অচিরে দুটি সংস্থা তাদের ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিংস (আইপিও) বাজারে ছাড়তে চলেছে। যেখানে বড় বড় বিনিয়োগকারী ছাড়াও সাধারণ ব্যক্তি এই দুটি সংস্থায় অর্থলগ্নি করতে পারবেন, অর্থাৎ আগ্রহীরা চাইলে সংস্থার কিছু অংশের শেয়ার কিনতে পারবেন। কিন্তু এমন বিতর্কের পর আইপিও কেনার বিষয়ে কতজন আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন।

অনেকে আবার এ বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ওপেনএআইর যেখানে নিজস্ব কৌশল ঠিক করা নিয়ে দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল, সেখানে তারা অন্য সংস্থার মুনাফা নিয়ে বেশি সরব। তবে এ বিতর্কে দুটি সংস্থার রেভিনিউ মডেলে আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন

×