ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নিজের স্বাধীনতার জায়গা থেকে ভিন্ন পথে হাঁটছি: সালাহউদ্দিন লাভলু

নিজের স্বাধীনতার জায়গা থেকে ভিন্ন পথে হাঁটছি: সালাহউদ্দিন লাভলু
×
×

সালাহউদ্দিন লাভলু। ছবি: সংগৃহীত

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:২০

সালাহউদ্দিন লাভলু। অভিনেতা ও নির্মাতা। তাঁর নতুন ইউটিউব চ্যানেল ‘সালাহউদ্দিন লাভলু ড্রামাস’-এ প্রকাশিত হয়েছে ‘হৃদয়পোড়া গন্ধ’ সিরিজের প্রথম পর্ব ‘অন্ধ মা’। নতুন চ্যানেল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এ গুণী নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।

হঠাৎ নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?
সত্যি বলতে, কখনও ভাবিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, টেলিভিশনের জন্য নিয়মিত নাটক নির্মাণের সুযোগ কমে গেছে। একটা নাটক প্রচারের পর পরবর্তী কাজের জন্য সাত-আট মাসও অপেক্ষা করতে হয়। ফলে কাজের ধারাবাহিকতা থাকে না। আবার এখন নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার একটা চাপ রয়েছে। কোন শিল্পীকে নিতে হবে, কোন ধরনের গল্প করতে হবে– এসব বিষয়েও নানা বিবেচনা থাকে। অথচ আমি গল্পের প্রয়োজনে শিল্পী নির্বাচন করতে চাই। সব মিলিয়ে নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। নিজের স্বাধীনতার জায়গা থেকে ভিন্ন পথে হাটছি।

আপনার পুরোনো নাটকগুলো এখনও দর্শক দেখেন। তাদের প্রত্যাশা কি এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে?
অবশ্যই। আমার ‘রঙের মানুষ’, ‘ভবের হাট’, ‘সাকিন সারিসুরি’সহ পুরোনো নাটকগুলো মানুষ এখনও দেখেন। ইউটিউবে সেসব নাটকের নিচে দর্শকের মন্তব্য পড়লে বোঝা যায়, তারা আবার ওই ধরনের গল্প দেখতে চান। অনেকে আগের মতো নাটক নির্মাণের অনুরোধ করেন। আমি যে ধরনের গল্প বলতে ভালোবাসি, দর্শকও অনেকটা সেই ধরনের গল্পই দেখতে চান। দর্শকের চাওয়া আর আমার চাওয়া যখন একই জায়গায় মিলে যায়, তখন সেই কাজ করার জন্য নিজের একটা প্ল্যাটফর্ম থাকা ভালো। আমি মূলত সেই সুযোগটাই তৈরি করতে চেয়েছি।

আপনার নাটকের গল্পে গ্রামীণ জনপদ, সাধারণ মানুষের জীবন ও সামাজিক বাস্তবতা বারবার ফিরে আসে।
মানুষের গল্পই আমাকে বেশি টানে। গ্রামের মানুষের দুঃখ-কষ্ট, হাসি-আনন্দ, সম্পর্কের টানাপোড়েন– এসবের মধ্যেই আমাদের জীবনের অনেক সত্য লুকিয়ে আছে। আমি চাই, আমার নাটকে মানুষ নিজের জীবনকে খুঁজে পাক। একই সঙ্গে গল্পের মধ্যে একটা সামাজিক বার্তা থাকুক। শুধু বিনোদন দেওয়াই নয়, নাটক দেখার পর দর্শক যেন কিছুক্ষণ ভাবেন, নিজের জীবনের সঙ্গে গল্পটাকে মেলাতে পারেন। এই দায়বদ্ধতা নিয়েই এত বছর কাজ করছি। আমার কাছে গল্পের প্রয়োজনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন চ্যানেলে কী ধরনের নাটক প্রকাশ করছেন?
আপাতত ছোট ছোট গল্প দিয়ে শুরু করেছি। ‘হৃদয়পোড়া গন্ধ’ সিরিজের প্রথম পর্ব ‘অন্ধ মা’ প্রকাশিত হয়েছে। এটি লিখেছেন আসাদ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বৃহস্পতিবার সিরিজটির নতুন একটি পর্ব প্রকাশ করব। আপাতত ২৬টি গল্প করার কথা ভাবছি। প্রতিটি পর্বের গল্প আলাদা হবে। গল্পগুলো এমনভাবে বলতে চাই, যেন শেষ পর্যন্ত গিয়ে দর্শক ভাবতে বাধ্য হন। সব গল্পের বক্তব্য আগে থেকে বলে দিলে তো দেখার আগ্রহটাই কমে যাবে। প্রথম দিকে ছোট পরিসরে কাজ করে দর্শকের প্রতিক্রিয়া বুঝতে চাই। এরপর ধীরে ধীরে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের নাটক এবং পরে আরও দীর্ঘ সময়ের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত দর্শক কীভাবে গল্পগুলো গ্রহণ করছেন, সেটি বুঝে এগোতে চাই।

চ্যানেলের প্রথম কাজ প্রকাশের পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
সাড়া বেশ ভালো পাচ্ছি। প্রথম কনটেন্ট প্রকাশের দেড় দিনের মধ্যেই প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার ভিউ হয়েছিল। সাবস্ক্রাইবারও দ্রুত বেড়েছে। দর্শকের মন্তব্যগুলো আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে। অনেকে শুভ কামনা জানাচ্ছেন, ভালো লাগার কথা বলছেন। একজন নির্মাতার জন্য এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। তবে শুরুতেই এতটা সাড়া পেয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাই না; বরং দর্শকের প্রত্যাশা বুঝে আরও ভালো কাজ করার চেষ্টা করব। আমার কাছে সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মানুষ গল্পগুলো মনে রাখছেন কিনা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকালে নিজেকে কতটা সফল মনে হয়?
কাজের জায়গা থেকে দেখলে এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে। আমার মনে হয়, উল্লেখযোগ্য আরও অনেক কাজ করা সম্ভব। তবে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা যদি সাফল্যের মাপকাঠি হয়, তাহলে আমি ভীষণ সফল। প্রায় ৩০ বছর আগে দর্শক আমার কাছে যে ধরনের নাটক আশা করতেন, এখনও অনেকটা একই ধরনের গল্প চান। এই জায়গাটা আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। মনে হয়, এত বছরেও আমি নিজের পথ থেকে কখনও সরে যাইনি। যে ধরনের গল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, এখনও সেখানেই আছি।

সামনে নতুন ধারাবাহিক কিংবা চলচ্চিত্রে কাজের পরিকল্পনা আছে?
নতুন একটি ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ চলছে। আপাতত নাম চূড়ান্ত হয়নি। চিত্রনাট্য প্রস্তুত হলে বিস্তারিত বলতে পারব। চলচ্চিত্রের গল্পও শুনেছি, ভালো লেগেছে। তবে এই মুহূর্তে আমার প্রধান মনোযোগ ইউটিউব চ্যানেলকে ঘিরে। কাজটা আগে একটু গুছিয়ে দাঁড় করাতে চাই। দর্শকের ভালোবাসা ও শুভকামনা পেলে নিয়মিত কাজ করে যেতে পারব বলে আশা করি।

নতুন এই যাত্রায় আপনার প্রত্যাশা কী?
প্রত্যাশা একটাই– নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে ভালো গল্প বলতে চাই। দর্শক যেন নির্মল বিনোদনের পাশাপাশি জীবনের কথাও খুঁজে পান। ভিউ কিংবা ভাইরালের হিসাবের বাইরে গিয়েও যে ভালো নাটক তৈরি করা যায়, সেটা প্রমাণ করতে চাই। শেষ পর্যন্ত দর্শকই একজন নির্মাতার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের ভালোবাসা সঙ্গে থাকলে আমি আমার মতো করে গল্প বলে যেতে চাই।
 

আরও পড়ুন

×