ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাতে স্ত্রীর কাছে ফোনে টাকা দাবি, সকালে হোটেলে মিলল শিক্ষকের লাশ

রাতে স্ত্রীর কাছে ফোনে টাকা দাবি, সকালে হোটেলে মিলল শিক্ষকের লাশ
×
×

আবুল বাশার তালুকদার

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:২৪

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে বিশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি স্বজনদের। এ ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান ও ম্যানেজার মামুন পলাতক।

নিহত শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়া বাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পরে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে বিশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তার স্ত্রী ফোনে তার অবস্থান জানতে চান এবং সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। একপর্যায়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে তাকে শুয়ে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও পাঠানো হয়। টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ স্বজনদের। এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও আর কেউ কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের সূত্র ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিক্ষক আবুল বাশার তালুকদারের ভাগ্নে কবির হোসেন বলেন, ‘আমার মামা রোববার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রোববার থেকে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে জানানো হচ্ছিল। তবে সোমবার তার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আমার মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন বলেন, ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য তদন্ত দল আসবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আবুল বাশার তালুকদারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন থেকে টাকা দাবির ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং হোটেলমালিকের পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা তদন্তের পর জানা যাবে।’

আরও পড়ুন

×