কখনও খেলছে কখনও কাঁদছে অবুঝ শিশুটি
আহমদ উল্লাহ, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৩
নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
শোকাবহ পরিবেশ। দাদির কোলে বসে আছে ফুটফটে শিশু রাহিন। সে কখনও হাসছে আবার
কখনও কাঁদছে। কখনও মগ্ন হচ্ছে খেলায়। পাশেই চেয়ারে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে
কাঁদছেন তার চাচা আদিল। এই দৃশ্য গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকের। এদিন
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় দুই বাসের
মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন রাহিনের বাবা জাহেদ হোসেন শাকিল। পরে তাকে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, চমেক হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাহিনের মা নিগার সুলতানাকে
নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
কিন্তু বিকেল ৩টায় তিনিও না ফেরার দেশে চলে যান। ফলে মুহূর্তেই এতিম হয়ে
গেল অবুঝ রাহিন।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল শ্যামলী পরিবহনের বাসে রাহিনকে নিয়ে
তার মা-বাবা যাচ্ছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার গ্রামের বাড়িতে। পটিয়ার
কর্ণফুলী ব্রিজ পার হওয়ার পর শান্তিরহাটে তাদের গাড়ি মুখোমুখি হয় অন্য একটি
বাসের সঙ্গে। পুলিশ রাহিনের বাবা জাহেদকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে
গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে রাহিনের মাকে একই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে
স্বজনরা নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখেন; কিন্তু সবাইকে
কাঁদিয়ে তিনিও না ফেরার দেশে চলে যান।
নিহত জাহেদের ছোট ভাই ব্যাংকার আদিল জানান, জাহেদ ও নিগার সুলতানার
দাম্পত্য জীবন খুব সুন্দর কাটছিল। জাহেদ দীর্ঘ বছর ধরে দুবাইতে ছিলেন।
স্ত্রী নিগার সুলতানা চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। জাহেদ গত
পাঁচ-ছয় মাস আগে দুবাই থেকে দেশে আসেন। রাহিন নগরের একটি স্কুলে কেজি ওয়ানে
পড়ে।
- বিষয় :
- সড়ক দুর্ঘটনা
