ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ডিবি হেফাজতে তরুণের মৃত্যু

মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, বিচার চাইল বিএনপি

মহাসড়ক অবরোধ  করে বিক্ষোভ, বিচার  চাইল বিএনপি
×

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত নামে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। পরে জানাজায় অংশ নিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করেন। এ সময় তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গত শনিবার বিকেলে ইশতিয়াককে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাঁকে তাঁর মায়ের সামনেই পেটানো হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরদিন রোববার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবির হেফাজতে মারা যান তিনি।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে মির্জা ইশতিয়াকের লাশ মধুখালী উপজেলার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ দেখে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পেঁয়াজ বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে।
অবরোধ চলাকালে অনেকে মহাসড়কে বসে পড়েন। পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও পারেনি। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অবরোধ চলার সময় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

জোহরের নামাজের পর মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ইশতিয়াকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পড়ান তাঁর ছোট ভাই মির্জা আব্দুস সামাদ। জানাজা শুরুর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম ও মধুখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হায়দার আলী মোল্লা বক্তব্য দেন। তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ বলেন, ইশতিয়াক হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধী যেই হোক না কেন তাঁকে আইনের আওতায় এনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সবার আছে। আসামিকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে, এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে পারি না।
জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা মৃত এসকেন হায়দারের কবরের পাশে ইশতিয়াকের মরদেহ দাফন করা হয়।
ইশতিয়াককে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইশতিয়াক ছাত্রলীগের মধুখালী উপজেলা বা কোনো ইউনিয়ন পর্যায়েরও নেতা ছিলেন না। ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে তাঁর নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ইশতিয়াকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে করা কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম এবং ডিএসবির (ওসি) মোশাররফ হোসেন।
ফাতেমা ইসলাম বলেন, কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তারা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

আরও পড়ুন

×