ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

স্কুলছাত্র মেহেদী হত্যা

দুই শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার অন্যরা অধরা, ক্ষুব্ধ স্বজন

দুই শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার অন্যরা অধরা, ক্ষুব্ধ স্বজন
×

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন– ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল সুপার ও সহকারী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম (৪৮) ও এজাহারভুক্ত সন্দেহভাজন আসামি মো. সাজিদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে মাহি (১৯)। তবে মামলার এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ মেহেদীর স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়া-শারমীন আক্তার দম্পতির ছেলে মেহেদী। সে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে পড়ত। গত ১৬ জুন রাতে একাডেমির আবাসিক কক্ষে পাওয়া যায় তার ঝুলন্ত মরদেহ। স্বজনের অভিযোগ, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী এই কিশোরকে নির্যাতন করে। পরে তার মৃত্যু হলে ঘটনা অন্যদিকে নিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ১৮ জুন জিয়াউদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে আসামি হিসেবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানসহ দ্বাদশ শ্রেণির সাত শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় আরও ৯-১০ জনকে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৬ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনে মেহেদীর পরিবারকে জানানো হয়, সে গুরুতর অসুস্থ। তখন ঢাকায় অবস্থানরত বাবা জিয়াউদ্দিন পরিবারের অন্য সদস্যদের বিদ্যালয়ে পাঠান। পরে তারা জানতে পারেন, মেহেদীকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে স্বজনরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আবাসিক হলে অবস্থানরত জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের কাছে মেহেদীসহ কয়েকজন কনিষ্ঠ শিক্ষার্থী নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল। এ বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি একটি আইফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেদী হাসানকে সন্দেহ করে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী। তারা মেহেদীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। সে এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগ দেওয়ার কারণে মেহেদীকে আরও নির্যাতন করা হয়। এই নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেহেদীর এক সহপাঠী জানায়, ‘হোস্টেলে ছোটদের ওপর সিনিয়রদের চাপ ও ভয়ভীতি ছিল। মেহেদীর মৃত্যুর পর আমরা আতঙ্কে আছি। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ কয়েকজন অভিভাবকও আবাসিক হলের সুন্দর পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানান। 
এক সপ্তাহেও এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের স্বজনরা। মেহেদীর মা শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা আমার ছেলেকে এভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের শাস্তি দেখতে চাই।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী ও রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

আরও পড়ুন

×