এমন সহিংসতা আর কত দিন
এস এম কাওসার, বগুড়া
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২২ | ০২:৪১
তিন বছর আগে দিনমজুর ওসমান আলী ৭০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে মেয়ে শেফালী খাতুনের বিয়ে দেন। কিন্তু তার মেয়ের জামাতা আল আমিন মাদকাসক্ত। বিয়ের দু'বছর পর আরও ৩০ হাজার টাকার জন্য শেফালীর ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন আল আমিন। একপর্যায়ে ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথমে নিজের মেয়ে রোমানাকে গলা টিপে হত্যা করেন। একই রাতে স্ত্রী শেফালীকে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে খুন করেন তিনি। এ ঘটনা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দক্ষিণ শংকরপুর গ্রামের।
ধুনট উপজেলার নসরতপুর গ্রামের ৯ বছর বয়সী তাবাসসুম। ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর দাদা-দাদির সঙ্গে ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিল শিশুটি। রাত ১০টার দিকে পরিচিত কয়েকজন যুবক তাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে মঞ্চের বাইরে নিয়ে যায়। মাহফিলের কাছেই বাঁশঝাড়ের ভেতর নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়।
শুধু শেফালী খাতুন বা তাবাসসুম নয়, বগুড়ায় প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্র, চলার পথ, যানবাহন, এমনকি নিজ ঘরও অনেক সময় তাদের জন্য নিরাপদ নয়।
গত বছর বগুড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন নিয়ে ৫৮৭টি আবেদন পড়েছে। ২০২০ সালে সংখ্যাটা ছিল ৪৮৯। এই হিসাবে সহিংসতার পরিমাণ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বছর বগুড়ায় ৭৪৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৬৪টি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, দেশে আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ নেই। বিচার পেতে ভুক্তভোগীর জন্য কিছু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা জরুরি। সেটি নিশ্চিত করতেও সরকার অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়।
ব্লাস্টের সমন্বয়কারী আশরাফুন নাহার স্বপ্না বলেন, খুন, ধর্ষণ ছাড়াও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে বগুড়ায় ১২টি থানায় নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রথমে জেলা সদর থানায় এর কার্যক্রম শুরু হয়। এখন জেলার সব থানাতেই এর কার্যক্রম চলছে।
জেলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক খুরশিদ জাহান কণা বলেন, শুধু খুন-ধর্ষণ নয়, সবচেয়ে বেশি ঘটে নারীদের ওপর পারিবারিক সহিংসতা। সংসার বাঁচাতে অনেক নারী মুখ বুজে নির্যাতন সহ্য করেন। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সহায়তা দেওয়া হয়।
জাতীয় সরকারি আইন সহায়তা কেন্দ্র বগুড়াও নারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে। সেখানে মাসে গড়ে ৩০ জন নারী যান। কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট আইনজীবী হুসনেনুর মুসলিম রূপালী বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় বেশিরভাগ মামলার সাক্ষী পাওয়া যায় না। যদিও বা পাওয়া যায় বিচার শুরুর আগেই তারা ভয়ে বা চাপে আপস করেন। ফলে মামলা আর এগোয় না।
- বিষয় :
- নারী নির্যাতন
- বগুড়া
- পারিবারিক সহিংসতা