ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘মেয়েটা একটু শান্তিতে শ্বাস নিতে পারলেই আমার শান্তি’

‘মেয়েটা একটু শান্তিতে শ্বাস নিতে পারলেই আমার শান্তি’
×

মেয়েকে নিয়ে বাবা মাহফুজ আহমেদ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩

‘আমার বেঁচে থাকাটা তখনই সার্থক, যখন আমার সন্তান একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারবে।’ একজন বাবার এমন আকুতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিজের একটি কিডনি বিক্রি করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন মাহফুজ আহমেদ নামে এক বাবা। তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কালিনগর এলাকার বাসিন্দা।

মাহফুজ আহমেদের দাবি, তাঁর মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ডিসটোনিয়া নামে জটিল রোগে ভুগছে। রোগের কারণে মেয়েটির হাত-পা ও ঘাড় অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যায়। কখনও কখনও শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হলে ঠিকমতো নিঃশ্বাসও নিতে পারে না। খিঁচুনি ও ব্যথায় মেয়ের চিৎকারে পরিবারের সদস্যদের নির্ঘুম রাত কাটে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিন বছর ধরে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। একপর্যায়ে চিকিৎসার জন্য মেয়েকে ভারতে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন চিকিৎসা করানোর কথা জানতে পারেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভারতের বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে মেয়েটির মস্তিষ্কে ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন ডিভাইস স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। এতে খিঁচুনি ও শরীর বেঁকে যাওয়ার মতো উপসর্গ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তবে এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ইতোমধ্যে পরিবারের সঞ্চয় ও সামর্থ্যের প্রায় সবটুকুই শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ওই বাবা। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমার কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ এরপরই নিজের একটি কিডনি বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘আমার মেয়েটা একটু শান্তিতে শ্বাস নিতে পারলে বাবা হিসেবে সেখানেই আমার শান্তি।’

তাঁর এমন আকুতিতে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে কিডনি বিক্রি করা আইনগত ও চিকিৎসাগতভাবে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। তাই মেয়েটির চিকিৎসার জন্য বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন বলেন, ‘মাহফুজ আহমেদের মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। আমরা পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

×