২৮০ কোটি ডলারের চুক্তি
ইসরায়েলকে ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১১ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৩
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে আবারও বোমা বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২৮০ কোটি ডলারের এ প্যাকেজে মোট ৪০ হাজার বোমা রয়েছে। এ বোমাগুলোর একেকটির ওজন ২০০০ পাউন্ড। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ রয়েছে।
এ বিক্রির খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন করদাতাদের অর্থে কেনা এ চুক্তিতে ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পশ্চিমা সামরিক অস্ত্রাগারগুলোর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্রের মধ্যে অন্যতম এমকে-৮৪। বিস্ফোরণের পর হাজার হাজার ফুট দূর পর্যন্ত এর বড় বড় ধাতব টুকরো ছিটকে যায়, যা ধাতু ও পুরু কংক্রিট ভেদ করতে সক্ষম। এটি এতটাই শক্তিশালী যে প্রায়ই মাটিতে বড় গর্ত তৈরি করে।
ইসরায়েল গাজার পাশাপাশি লেবাননেও নিয়মিতভাবে ২০০০-পাউন্ড ওজনের এসব বোমা ব্যবহার করেছে। বিষয়টি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের তদন্তের মুখে পড়েছে এবং গাজায় ব্যাপক হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর আগে বাইডেন প্রশাসন এ বোমা সরবরাহ স্থগিত করেছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় গণহত্যা চালানোর কারণে ইসরায়েল যখন ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার সম্মুখীন হচ্ছে, ঠিক তখনই এ প্যাকেজটি সামনে এল। মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই বিদেশি সামরিক অর্থায়নের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে, যেখানে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইসরায়েলকে দেওয়া হয়, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকেই অস্ত্র কিনতে পারে।
প্রস্তাবিত এ বিক্রি ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ সংযোজন। এটি ইঙ্গিত দেয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার ক্রমশ অবনতিশীল ব্যক্তিগত সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা ফিরে এসেছে, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে।
গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিক কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যার মধ্যে এ বোমার ৩৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর গত জানুয়ারি মাসে প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে মোট ৬৬৭ কোটি ডলারের নতুন এক দফা অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় কী ধরনের বোমা ও কামান ব্যবহার করেছে, সে সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ করেছে। তবে হামলার ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া বিস্ফোরণের টুকরোগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে সেখানে মার্কিন তৈরি বোমাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। হামাসের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এগুলো ছোড়া হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এসব বোমা।
গত অক্টোবরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ভয়াবহ লড়াই কিছুটা কমে এলেও ইসরায়েল ওই অঞ্চলে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। গত মাসে ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান আলোচক জ্যারেড কুশনার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করে ইসরায়েলকে হামলা কমানোর অনুরোধ করার পরও এমনটা ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক তদন্তে গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে, তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস নেতৃত্বাধীন এক হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করার পর নিজেদের এ সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে দাবি করে আসছে তেল আবিব।
- বিষয় :
- ট্রাম্প
- ইসরায়েল
- নেতানিয়াহু