ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন কংগ্রেসে বিল পাস

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা, ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে ভারত ও চীন

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা, ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে ভারত ও চীন
×

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৯

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যাপক নতুন নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। কয়েক মাসের বিলম্বে পাস হওয়ার পর গতকাল বুধবার বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ২৬২-১৫৯ ভোটে প্যাকেজটি পাস করেছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আইনি পদক্ষেপ এটি, যাতে কংগ্রেস চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দিল।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ বিলে স্বাক্ষর করবেন। গত মাসে ৮৬-১১ ভোটে সিনেটে বিলটি পাস হয়েছিল।

এ আইন রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ট্যাংকারগুলোর গুপ্ত বহরকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।

মস্কোর যুদ্ধের অর্থায়নের পথ বন্ধ করার প্রয়াসে বিলটি ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের প্রধান ক্রেতাদের (যার মধ্যে সম্ভাব্যভাবে চীন ও ভারতও রয়েছে) ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে।

তবে এ ব্যাপক শুল্ক ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক বিভাজনের সৃষ্টি করেছে। তারা ইউক্রেনকে সমর্থন করলেও বাণিজ্যের ওপর ট্রাম্পের হাতে বৃহত্তর ক্ষমতা তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিক্স বিলটিকে ‘গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা বর্তমান খসড়াটি এমনভাবে তৈরি করেছেন, যাতে আমেরিকান জনগণের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা সর্বাধিক করা যায় এবং রাশিয়া বা তার সহায়তাকারীদের ওপর প্রকৃত অর্থে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের যেকোনো বাধ্যবাধকতামূলক শর্ত সর্বনিম্ন করা যায়।’

মিক্স আরও জানান, সেকেন্ডারি (মাধ্যমিক) শুল্কের বিধানগুলো বাদ দেওয়া হলে তিনি বিলটিকে সমর্থন করতেন। কিন্তু রিপাবলিকানরা সেগুলো সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে আনা সংশোধনীগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

তা সত্ত্বেও কয়েক ডজন ডেমোক্র্যাট এ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। এটি মুক্তবাজার বা অহস্তক্ষেপবাদী যুক্তিতে নিষেধাজ্ঞায় আপত্তি জানানো মুষ্টিমেয় রিপাবলিকানদের বিরোধিতাকে প্রশমিত করেছে।

ইউক্রেনপন্থী কর্মীরা প্রতিনিধি পরিষদের এ ভোটকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা অব্যাহত রুশ হামলার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এর মধ্যে দক্ষিণে বেসামরিক পরিবহনের ওপর গতকাল চালানো ড্রোন হামলাও রয়েছে। কিয়েভের কর্মকর্তাদের মতে, ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে আরও বেশি চাপের প্রয়োজন উল্লেখ করে কংগ্রেসকে এ নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ পাস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত জুলাই মাসে ওয়াশিংটন সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকেও অংশ নেন তিনি। তখন জেলেনস্কি বলেছিলেন, ‘পুতিন এখন প্রতি মাসে তার ৩০ হাজার সৈন্য হারাচ্ছেন। এটি অনেক বড় ক্ষতি, কিন্তু তিনি এ যুদ্ধ থামাতে চান না। তাই এখন আর উদ্যোগ পুতিনের হাতে নেই।’ 

এ বিল রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তাকারী কোম্পানি ও বিদেশি পক্ষগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করবে এবং ইরানের সঙ্গে জড়িত নিষেধাজ্ঞাগুলোকেও প্রসারিত করবে।

বিলটির স্পনসর ছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি গত জুলাই মাসে মারা যান। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে এ আইনটি পাসের জন্য জোর দিয়ে আসছিলেন তিনি। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রচারণার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতাদের ওয়াশিংটন ছাড়ার ঠিক আগেই গতকাল এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

ইউক্রেনীয় জ্বালানি লবি গ্রুপ ‘রাজোম উই স্ট্যান্ড’-এর নির্বাহী পরিচালক সভিতলানা রোমানকো বলেন, ‘বিলটি দ্রুত স্বাক্ষরিত হয়ে আইনে পরিণত হলে, ক্রেমলিনের যুদ্ধের তহবিলে অর্থের প্রবাহ চূড়ান্তভাবে বন্ধ করতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রয়োগ আশা করছি।’ 

তিনি বলেন, বিলম্বের প্রতিটি দিন মানে এমন একটি দিন, যখন ইউক্রেনে আমাদের আরও বেশি মানুষকে সমাহিত করতে হয়।

সূত্র: এএফপি। 

আরও পড়ুন

×