ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএনের বিশ্লেষণ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ‘দুর্বল’ ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ‘দুর্বল’ ট্রাম্প
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:২৮

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। ডেমোক্র্যাটদের এবার হাউস ও সিনেট– দুটোই নিজেদের দখলে নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর পুরোটাই সম্ভব হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অজনপ্রিয় হয়ে যাওয়ার কারণে। 

সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের সমর্থনের প্রভাব স্পষ্টতই কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে তা এখনও শক্তিশালী। এ মুহূর্তে নিজের সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অবস্থান আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল। 

সব মিলিয়ে কংগ্রেস অথবা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ট্রাম্প-সমর্থিত ১০ প্রার্থী দলীয় প্রাইমারিতে হেরেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন গভর্নর পদপ্রার্থী এবং শুধু আগস্ট মাসেই হেরেছেন ছয়জন।

সিএনএন তথ্য পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, ১০ জনের এই পরাজয়ের সংখ্যা ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীদের সম্মিলিত পরাজয়ের সমান। তবে ২০২২ সালে ট্রাম্প-সমর্থিত ১২ প্রার্থী হেরেছিলেন, অর্থাৎ ওই বছরের তুলনায় এবার সংখ্যা কিছুটা কম। অবশ্য ২০২২ সালে ট্রাম্প আবারও রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল।

সামগ্রিকভাবে প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রেকর্ড শক্তিশালী। প্রায় যে কোনো প্রার্থীই দলীয় প্রাইমারিতে তাঁর সমর্থন পেতে চাইবেন। কিন্তু তাঁর সমর্থন কোনোভাবেই নিশ্চিত বিজয়ের গ্যারান্টি হয়ে ওঠেনি। আর এটি এমন একটি ধারণাকে আরও জোরালো করে যে, ডানপন্থি ভোটাররা আগের তুলনায় ট্রাম্পের কাছ থেকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা কম নিচ্ছেন।

তবে ট্রাম্প-সমর্থিত কিছু প্রার্থী হারলেও তিনি যখন কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও জোরালোভাবে অবস্থান নিয়েছেন, তখন সাধারণত ভালো ফল পেয়েছেন।

রিপাবলিকানরা ২০২৬ সালের নির্বাচনে সমাজতন্ত্রকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক আক্রমণের বিষয় হিসেবে সামনে আনলেও নির্বাচনের ফলাফল এবং সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, উপযুক্ত ধরনের ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থীকে নির্বাচিত করা নিয়ে মার্কিন ভোটাররা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন।

বরং সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, সমাজতন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করা প্রার্থীদের তুলনায় ‘মাগা’ প্রার্থীদের নির্বাচিত করা নিয়েই ভোটারদের উদ্বেগ বেশি। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস/ সিয়েনা কলেজের এক জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ভোটারদের মাত্র ৩০ শতাংশ বলেছেন, তারা এমন কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পছন্দ করবেন না, যিনি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির হিসাব চলতি বছরের নভেম্বরে পাল্টে দিতে পারেন মন্টানার ভোটাররা। দেশটিতে তারাই হতে পারে প্রথম অঙ্গরাজ্য, যারা নির্বাচনে করপোরেশনের অর্থায়নে রাশ টানতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্য একই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্টানা সফল হলে তা গুরুত্বপূর্ণ একটি নজির তৈরি করবে। পরে পুরো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ মার্কিনিই মূলত চান না, নির্বাচনে ব্যালট ইনিশিয়েটিভের দোহাই দিয়ে করপোরেশন অর্থায়ন করুক।

আরও পড়ুন

×