ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‌্যাব বিলুপ্ত, যাত্রা শুরু এসআরবির

র‌্যাব বিলুপ্ত, যাত্রা শুরু এসআরবির
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:১৩

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির পর বুধবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এর আগের দিন মঙ্গলবার এসআরবি আইন, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

লোগোতে ইংরেজি ‘আরএবি’ অক্ষরগুলো সরিয়ে বসানো হয়েছে ‘এসআরবি’। র‌্যাবের ফেসবুক পেজগুলোর নাম পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে এসআরবি। পেজগুলোর প্রোফাইলে দেওয়া হয়েছে নতুন লোগোর ছবি। 

এতদিন যেসব গ্রুপে র‌্যাবের অভিযান, গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের খবর গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো হতো, বুধবার সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে। এসব গ্রুপে নতুন নামেই খবর আসতে শুরু করেছে। 

সন্ধ্যায় এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ সমকালকে বলেন, ‘যেহেতু গেজেট হয়েছে, র‌্যাবের লোগো দিয়ে কাজ করলে বিতর্ক সৃষ্টি হবে। তাই, আমরা র‌্যাব নাম পরিবর্তন করে এসআরবি লিখেছি। তবে লোগোর বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। র‌্যাবের পোশাক ও পতাকাসহ অন্যান্য বিষয়ও পরিবর্তন করা হবে। তবে একটু সময় লাগবে।’

মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান সমকালকে বলেন, ‘গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলেন মানবাধিকারকর্মীরা। বিএনপিরও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম, নতুন নামে পুরোনো কাঠামো রেখে এসআরবি গঠন করা হয়েছে। নামকাওয়াস্তে নামের পরিবর্তন করে যে পোশাকই পরানো হোক, তাতে মৌলিক পরিবর্তন হবে না।’

‎এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠন-সংক্রান্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এর যেসব বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেসব বিধান রহিত হবে। তবে অর্ডিন্যান্সের সেকশন ১৪-তে দেওয়া ক্ষমতাবলে জারি করা র‌্যাব (কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা) বিধিমালা-২০০৫ এবং এই বিধিমালা অথবা অন্য কোনো আইন বা বিধির অধীন ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহীত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল ও বলবৎ থাকবে।

এ ছাড়া এসআরবি আইনে বলা হয়েছে, র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, সব হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও এ-সংক্রান্ত সব দলিল ইত্যাদি এসআরবির কাছে তৎক্ষণাৎ স্থানান্তর ও ন্যস্ত হবে। পাশাপাশি নতুন আইনে বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ২০০৫ সালের বিধিমালায় র‌্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল থাকবে।

র‌্যাবের গ্রেপ্তার ও আটকের ক্ষমতা এবং অপরাধ তদন্তের ধারাগুলো এসআরবি আইনে বহাল রাখা হয়েছে। বাহিনীটির মৌলিক কাঠামো, ক্ষমতা এবং কার্যাবলি অক্ষুণ্ন রেখেছে, শুধু এর নাম পরিবর্তন করায় বিতর্ক হচ্ছে। এসআরবি আইনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কোনো তদারকি ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। এতে র‌্যাবের মতো একই ধরনের ক্ষমতা অপব্যবহারের বৃত্তে পড়ার আশঙ্কায় আইনটি নিয়ে সংসদেও বিতর্ক হয়।
বিরোধী দল আপত্তি তুললেও ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি জাতীয় সংসদে পাস হয়। নতুন আইনে র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়। র‌্যাবও কাগজে-কলমে পুলিশের অধীনেই ছিল। 

সংসদে বিলটি পাসের আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, র‌্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ বহাল রেখে শুধু বাহিনীটির ‘সাইনবোর্ড’ বদল করা হচ্ছে। তারা বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছিলেন, র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি ছিল; সেটি বিলুপ্ত করে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি ছিল না। বিশেষায়িত এমন একটি বাহিনীর প্রয়োজন কেন, তার যৌক্তিকতা আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী র‌্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। র‌্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পদ স্থানান্তরের যুক্তি হিসেবে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে। নতুন ইউনিটের কাছে এসব সম্পদ গেলে আবার কেনাকাটার প্রয়োজন হবে না।

২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। পরে ‘গুম’ ও ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ’ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বাহিনীটি সমালোচনার মুখে পড়ে। র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‌্যাব ও বাহিনীটির তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি নতুন করে ওঠে।

আরও পড়ুন

×