ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট ১৫ বছর পর গার্মেন্টস কর্মী হত্যায় প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড

সিলেট ১৫ বছর পর গার্মেন্টস কর্মী হত্যায় প্রাক্তন স্বামী ও তার বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড
×

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৫৭

সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে গার্মেন্টস কর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যা মামলায় তার প্রাক্তন স্বামীসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে আরও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। 

বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে দুই আসামি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের মুছা খান ওরফে মুছা ড্রাইভারের ছেলে নাজমুল হাসান খান (২৩) ও তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের আদম আলীর ছেলে সুজন মিয়া (২০)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গার্মেন্টস কর্মী ময়মনসিংহের নান্দাইল আসারগাওয়ের নাজমুল হক ওরফে সুলেমান হোসেনের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজিপুরের একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। সেখানে বাসের হেলপার নাজমুল হোসেন খানের সঙ্গে পরিচয় হয় সাথীর। প্রেমের সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন। তাদের ঔরসজাত একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। নাজমুল ওই সন্তানটিকে তার বন্ধু সিলেটের গোয়াইঘাট জাফলং এলাকায় বসবাসকারী সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন। 

এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সাথী সন্তানকে ফিরে পেতে বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পরও গার্মেন্টে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন নাজমুল। ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে সাথীকে ২০১০ সালের ১২ মে সিলেট নিয়ে আসেন নাজমুল।  

সিলেট রেলস্টেশনে রাত্রিযাপন করে পরদিন দুপুরে জাফলং নিয়ে যাওয়া হয় সাথীকে। জাফলং এর সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকায় নির্জন স্থানে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহতের বাবা বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা (নং-৯ (৫)২০১০) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ তদন্তকালে নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতে স্বীকারোক্তি দেন নাজমুল। তিনি ও তার বন্ধু মিলে কীভাবে সাথীকে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দেন।

২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালে জামিনে বের হন নাজমুল। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর  সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি আল আসলাম মুমিন এবং আসামি পক্ষে ফারহানা হাবিব চৌধুরী।

আরও পড়ুন

×