ফটকে তালা, ভাঙা দেয়াল টপকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকলেন এমপি
ফটক খোলার জন্য অপেক্ষা করেও কাউকে না পেয়ে ভেতরে ঢুকেন গাজীপুর-৩ আসনের এমপি। ছবি: সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:১৬ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:২০
আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র দেখতে পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। বুধবার দুপুরে তিনি শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে যান। গিয়ে দেখেন প্রধান ফটকে মরচে ধরা তালা ঝুলছে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পাশের ভাঙা দেয়ালের ওপর থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে সেই দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গাজীপুর-৩ আসনের এই এমপির নিজ নির্বাচনী এলাকায় পড়েছে। এর সূত্র ধরে গতকাল তিনি কাউকে না জানিয়ে সেটি পরিদর্শনে যান। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখতে পান সংসদ সদস্য। ফটক খোলার জন্য অপেক্ষা করেও কাউকে না পেয়ে এক পর্যায়ে ভেতরে ঢুকেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার পর সংসদ সদস্য দেখতে পান কয়েকজন নারী পুরুষ বসে রয়েছেন। এমপি বলেন, গেটের তালায় মরিচা ধরে গেছে। দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তালাটি ঝুলছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও কেউ না আসায় বাধ্য হয়ে দেয়াল টপকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তখন কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসার ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, গাজীপুর ইউনিয়ন প্রত্যন্ত এলাকা। এখানকার মানুষের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা কিংবা জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিদর্শনে এ চিত্র দেখার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এরমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমপির পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে ছিলেন গাজীপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পার্শ্ববর্তী আজুগিরচালা গ্রামের বাসিন্দা। এ বিষয়ে হাসান আল মামুন বলেন, আমি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেউ নই। আমি পরিবার পরিকল্পনা সেক্টরের। তবে ওই কেন্দ্রে কোনো পদে কেউ না থাকায় আমরা পরিবার পরিকল্পনার কর্মীদের নিয়ে মিটিং করি, মাঝে মধ্যে বসি। এ কারণে আমার কাছে চাবি নিয়ে রেখেছি।
বুধবার প্রধান ফটকের চাবি বাড়িতে রেখে তিনি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। তিনি জানান, তাঁর কাছে কেন্দ্রের পকেট গেটের চাবি ছিল। পকেট গেট দিয়ে ঢুকে কয়েকজন পরিবার পরিকল্পনা কর্মীকে নিয়ে সাপ্তাহিক মিটিং করছিলেন তিনি। এরমধ্যে এমপি চলে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আপেল মাহমুদ জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কোনো জনবল কর্মরত নেই। সব পদই শূন্য। পরিবার পরিকল্পনার কয়েকজন মাঠকর্মী কাজে যাওয়ার আগে সেখানে মিটিং করেন। প্রতি শনিবার একজন করে স্বাস্থ্যকর্মী সেখানে গিয়ে সেবা দেন। সংসদ সদস্য হঠাৎ পরিদর্শনে যাওয়ায় ওই সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ওই এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, সাত থেকে আট বছর ধরে এভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পড়ে আছে। কোনো ডাক্তার নেই, কর্মী নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন ও ১০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ডিও লেটার দিয়েছেন। ডিও লেটার দেওয়ার পর হঠাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি গতকাল এমন দৃশ্য দেখতে পান।
- বিষয় :
- গাজীপুর