ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটে নাকাল যাত্রী-চালকরা

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটে নাকাল যাত্রী-চালকরা
×

যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২২ | ১০:১৪ | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২২ | ১০:১৪

পদ্মায় পানির স্তর কমে যাওয়া, নদীতে নাব্য সংকট ও ফেরিঘাটের পন্টুন নিচু হয়ে যাওয়ায় ঢালু সংযোগ সড়কে গাড়ি ওঠানামায় ধীরগতির কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে লেগেই থাকছে তীব্র যানজট। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নদী পারাপার হতে আসা বিভিন্ন যানবাহন দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় নাকাল হচ্ছেন যাত্রী, চালকসহ সংশ্লিষ্টরা।

একই অবস্থা পাটুরিয়া ঘাটেও। পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রেখে যাত্রীবাহী যানবাহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হলেও কমছে না ভোগান্তি।

এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বেশি টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সিরিয়াল ভেঙে ট্রাক চালকরা ফেরির টিকিট কাটছেন।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে গোয়ালন্দ রেলগেট পর্যন্ত অন্তত ৭ কিলোমিটার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক নদীপারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে আছে। সিরিয়ালে রয়েছে যাত্রীবাহী শত শত বাসও। নদী পার হতে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এবং যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে।

সিরিয়ালে আটকে থাকা রয়েল পরিবহনের যাত্রী সানজিদা আক্তার বলেন, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মহাসড়কের যানজটে আটকে আছি। প্রচণ্ড গরমে কষ্টের সীমা নেই।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম জানান, নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ফেরিতে গাড়ি ওঠানামায় সময় বেশি লাগছে। তা ছাড়া ডুবোচরের কারণে ধীরগতিতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে ফেরি চলছে।

এদিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী যানবাহনের সারি মহাসড়কের চার কিলোমিটারব্যাপী বিস্তৃত ছিল। পণ্যবাহী যানচালকদের অভিযোগ, ঘাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে পরে আসা পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পারের সুযোগ করে দিচ্ছে।

নবগ্রাম এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে অপেক্ষমাণ যশোরগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, যারা দালালের মাধ্যমে টিকিট কাটে, তারা সরাসরি ঘাটে চলে যায়। যারা টাকা না দিয়ে সিরিয়াল ভাঙে, তাদের দালাল ও পুলিশ মারধর করে।

তবে মানিকগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) কেএম মেরাজ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্য নয়। জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন নিয়মানুযায়ী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পার করা হয়। এ কারণে অনেকেই বলেন, টাকার বিনিময়ে পার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, দুই দিন বন্ধের কারণে পাটুরিয়া ঘাটে বাড়তি যানবাহনের চাপ রয়েছে। টিকিট কাউন্টারে দালাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘাটকেন্দ্রিক কিছু দালাল রয়েছে। তাদের ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।

আরও পড়ুন

×