রিমোট কন্ট্রোল বোমা বানাত ওরা
গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির ২ সদস্য- সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:২৬
খুলনার গল্লামারী খোরশেদনগর এলাকা থেকে বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ নব্য জেএমবির সদস্য সন্দেহে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তারা রিমোট কন্ট্রোল বোমা বানাতো। গত ২৩ সেপ্টেম্বর খানজাহান আলী থানার একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিস এবং ৫ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার গাড়ির গ্যারেজে রিমোট কন্ট্রোল বোমা বিস্ম্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও এরই মধ্যে স্বীকার করেছে তারা। তাদের আর কোনো সহযোগী আছে কিনা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির শনিবার তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুরাতন গল্লামারী রোডে হাসনাহেনা নামে একটি বাড়ির তিনতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে নুর মোহাম্মদ অনিক (২৪) এবং মোজাহিদুল ইসলাম রাফি (২৩) নামে ২ জনকে আটক করা হয়। তারা ২ জন নব্য জেএমবির সদস্য।
নুর মোহাম্মদ অনিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের এবং রাফি পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অনিক মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থনার মোড়াবাড়ী গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে এবং রাফি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার ঘাগুরদুয়ার গ্রামের মো. রেজাউল করিমের ছেলে। অনিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ৩১৮ নম্বর কক্ষে এবং রাফি খানবাহাদুর আহছানউল্লা হলের ২০৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, অনিক একটি মেয়েকে বিয়ে করার পর হলের পাশাপাশি গল্লামারী এলাকার ওই বাসায় থাকতেন। তার স্ত্রী বাসায় না থাকলে তখন অনিক ও রাফি ওই বাসায় গিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড করতেন।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী মতাদর্শে আকৃষ্ট হয় এবং পর্যায়ক্রমে নব্য জেএমবি'র আদর্শে অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত হয়ে তাতে সম্পৃক্ত হয়। একপর্যায়ে নিজেরাই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা এবং বোমা তৈরির কারিগরি জ্ঞান আয়ত্ত করে।
পুলিশ আরও জানায়, অনলাইনে বাইয়্যাত গ্রহণ করে তারা একটি সেল গঠন করে। ওই দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার এক মাস আগে তারা স্থান নির্বাচনের জন্য রেকি শুরম্ন করে এবং একইসঙ্গে মালামাল সংগ্রহ করে ভাড়া বাড়িতে বোমা তৈরির কাজ চালায়। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সময় নির্ধারণের পর ২ জন একসঙ্গে বোমা এবং রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। একজন বোমা স্থাপন করে এবং অন্যজন রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে। বোমা স্থাপনকারী নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলে অন্যজন ম্যাসেজ পেয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি রিমোর্ট কন্ট্রোল, একটি ল্যাপটপ, একটি ক্যালকুলেটর, ১৪৪ বপ ম্যাচ, একটি অ্যালুমিনিয়ামের ভাতের পাতিল, দুটি ৯ ভোল্টের রিচার্জেবল ব্যাটারি, একটি কচটেপ, দুই টুকরো বিদ্যুতের তার, রিচার্জেবল ব্যাটারি রাখার টিনের বপ, তিন প্যাকেট লোহার বল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি ম্যালামাইনের বাটি যার মধ্যে একটি ইলেকট্রিক তারযুক্ত সার্কিট বোর্ড, একটি ক্যাবলযুক্ত সার্কিট, ফ্রেমে রক্ষিত একটি কয়েল, একটি এ্যালুমিনিয়ামের টেবিল ঘড়ি, একটি তারযুক্ত সুইচ ও ৮ ইঞ্চি লম্বা সার্কিট ক্যাবল পাওয়া গেছে।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কমিশনার জানান, তাদেরকে অর্থ যোগান দেয় কিনা এবং তাদের কোনো সহযোগী আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। অনিক নিম্নবিত্ত পরিবারের এবং রাফি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
এদিকে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফায়েক উজ্জামান সমকালকে বলেন, পুলিশের কাছ থেকে কাগজপত্র পেলে বিষয়টি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃংখলা কমিটির সভায় তা উত্থাপন করবেন।
এদিকে এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রহিত কুমার বিশ্বাস বাদি হয়ে ২ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
- বিষয় :
- খুলনা
- বোমা তৈরি
- জেএমবি
- নব্য জেএমবি
