ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

তাড়াশে দইমেলা

তাড়াশে দইমেলা
×

স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে দইমেলা- সমকাল

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০০:১৯ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০৭:১৪

চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশে স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে দইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে নামিদামি ঘোষদের দই আসার মধ্য দিয়ে তাড়াশের প্রায় ২০০ শ’ ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলার বেচা কেনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দই মেলা চলবে। 

মূল মেলায় দইসহ রসনা বিলাসী খাবার রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হয়ে থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী চলনবিলের তাড়াশে দইমেলা নিয়ে রযেছে নানা গল্প কাহিনী। 

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী জানান, তাড়াশের জমিদারী আমলে তৎকালীন জমিদার বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম দই মেলার প্রচলন করেছিলেন। 

জনশ্রুতি আছে, জমিদার রাজা রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টি পছন্দ করতেন। এ ছাড়া জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হতো। তখন থেকেই জমিদার বাড়ির সম্মুখে রশিক লাল রায় মন্দিরের পাশের মাঠে স্বরস্বতী পূজা উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী দইমেলা বসত। প্রতি বছর শীত মৌসুমে মাঘ মাসের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দই মেলায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর থেকে ঘোষেরা দই এনে মেলায় পসরা বসিয়ে বিকিকিনি করতেন। সবচেয়ে ভাল সুস্বাদু দই তৈরিকারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তবে জমিদার আমল থেকে শুরু হওয়া তাড়াশের দইমেলা এখনও মাঘ মাসের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে উৎসব আমেজ আছে। তবে এটি তিন দিনের পরিবর্তে একদিন হয়ে থাকে। দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে।

যেমন- ক্ষীরসা দই, শাহী দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, শ্রীপুরী, ডায়বেটিস দইসহ এ রকম হরেক নামের দই বিক্রি হয়। বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, চান্দাইকোনা,  শ্রীপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দই প্রচুর বেচাকেনা হয়। 

স্থানীয় একাধিক দই প্রস্তুতিকারী জানান, দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিকের মুজুরি, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়ে যাচ্ছে। তবে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বাড়লেও মেলায় আনা সব দই বিক্রি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

×