বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সেই শিক্ষক
খন্দকার মাহমুদ পারভেজ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১৬:৪০ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১৭:০২
ব্যক্তিগত ক্ষোভে ৩৪ শিক্ষার্থীকে অ্যাসাইনমেন্টে শূন্য দেওয়া গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক খন্দকার মাহমুদ পারভেজ বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গতকাল রোববার বিকেলে তিনি পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নুরউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে খন্দকার মাহমুদ পারভেজের অপসারণ দাবিতে গতকাল সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, খন্দকার মাহমুদ পারভেজ সেকশন অফিসার থেকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের নম্বর কম দিয়েছেন। এ ছাড়া ৩৪ শিক্ষার্থীকে শূন্য দিয়েছেন।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ওই শিক্ষক সম্প্রতি একটি কোর্সের অ্যাসাইনমেন্টে ৩৪ জনকে শূন্য দিয়েছেন। আমরা কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ইচ্ছা হয়েছে তাই শূন্য দিয়েছেন। একজন শিক্ষক কীভাবে এমন হতে পারেন!
আরেক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ভিসির ভাতিজা হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ক্লাসেও ঠিকভাবে পড়াতে পারেন না। উইকিপিডিয়া দেখে পড়ান। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলেই রেগে যান, হুমকি দেন।
জানা গেছে, খন্দকার পারভেজ সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের ভাতিজা। তিনি ২০১৬ সালে সেকশন অফিসার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। পরে অনার্স মাস্টার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এরপর মাত্র দেড় বছরেই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বিভাগের সভাপতি হন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে খন্দকার মাহমুদ পারভেজ বলেন, 'অনার্স-মাস্টার্সে তার দ্বিতীয় শ্রেণি রয়েছে সত্যি, কিন্তু তার নিয়োগ অবৈধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অধিকতর যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে 'দুটি শর্ত শিথিলযোগ্য' নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি উল্লেখিত এমন শর্তে চাকরি পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমার পিএইচডি চলমান থাকায় এবং রবীন্দ্র জার্নালে ৯টি প্রকাশনা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অধিকতর যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছে।'
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি ওদের খুব ভালোবাসি, অন্যায় হলে শিক্ষক হিসেবে একটু বকাবকি করি, কিন্তু কখনও হুমকি দিইনি। সবসময় চেষ্টা করেছি ওদের সহযোগিতা করতে।' সহযোগিতা করলে শিক্ষার্থীরা কেন এসব অভিযোগ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ওদের বেশি ভালোবাসি তো, তাই আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছে।'
এদিকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে আসেন প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান। এ সময় প্রক্টর অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষক অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
