কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের চরে শতাধিক মরা গরু-বাছুর
প্রতীকী ছবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২০ | ০৬:০০ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২০ | ০৭:২৭
ভারত সীমান্ত ঘেঁষা কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিভিন্ন ডুবোচরে গত ২/৩ দিন ধরে আটকে আছে শতাধিক মরা গরু ও বাছুর। ইতিমধ্যে কিছু কিছু মরা গরু-বাছুরের চামড়া ছিলে তুলে নিয়ে গেছে স্থানীয় মুচি সম্প্রদায়ের লোকজন। ফলে ক্রমেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চোরাকারবারীরা ভেলায় করে পা বেঁধে ৮/১০টি করে গরু ও বাছুর ব্রহ্মপুত্র নদে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ভাসিয়ে দেয়। এ অবস্থায় ভারতের বিএসএফ চোরাকারবারীদের ধাওয়া দিলে তারা ভেলাসহ গরুগুলো ফেলে পালিয়ে যায়। এতে ভেলাগুলো ভাসতে ভাসতে ভাটির দিকে আসার সময় অতিরিক্ত ঠান্ডায় গরু ও বাছুরগুলো মরে যায়।
চর যাত্রাপুর এলাকার নৌকার মাঝি কোবাদ মোল্লা জানান, চর যাত্রাপুরের ডুবোচরে আটকা পড়েছে ৯টি মৃত গরু ও বাছুর। চর ভগবতীপুরের অধিবাসী জলিল মোল্লা জানান, তার বাড়ির পাশের দু'টি ডুবোচরে ৪০টির মতো মরা গরু আটকা পড়ে আছে। এগুলো থেকে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, তার ইউনিয়নের কালির আলগা, খেরয়ার আলগা, পোড়ার চর, চর ভগবতীপুর, চর যাত্রাপুর, চিরাখাওয়া, ঝুনকার চর, অষ্টআশিরচর ও রলাকাটা এলাকার ডুবোচরগুলোতে মরা গরু ও বাছুরগুলো আটকে আছে।
কুড়িগ্রামস্থ ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, ঘটনা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। কড়া নজরদারির মধ্যেও চোরাকারবারীরা বিস্তীর্ণ নদীপথে কুয়াশার মধ্যে ভেলায় করে গরু ও বাছুর পাচার করছিল। এ সময় অতিরিক্ত ঠান্ডায় গরু-বাছুরগুলো মারা পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সেজন্য বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে গরু-বাছুরগুলো পুঁতে ফেলতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- মরা বাছুর
- ব্রহ্মপুত্র চর
- কুড়িগ্রাম
