ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নাসিরনগরে সালিশ করে হামলাকারীকে ‘রক্ষার চেষ্টা’

নাসিরনগরে সালিশ করে হামলাকারীকে ‘রক্ষার চেষ্টা’
×

হামলায় আহত শিক্ষার্থীরা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:৪৬ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:০৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দাখিল পরীক্ষার একটি কেন্দ্রের হল সুপার ও পরীক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হামলার দুদিন পর বিচার সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি করার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দাঁতমন্ডল এরফানিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রের পাশের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফী সমকালকে জানান, হল সুপার ও পরীক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিচার হতে পারে না। যদি কোনো পক্ষ সালিশ করে তাহলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমি গুরত্ব দিচ্ছি, আহত হল সুপার ও পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পরীক্ষাগুলো সুন্দরভাবে সমাপ্ত হোক। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচার সালিশের বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাফি উদ্দিন আহমেদ জানান, পরীক্ষার কেন্দ্রটি যাতে সরিয়ে নেওয়া না হয় সেজন্য আমি চেষ্টা করছি। উভয়পক্ষের সম্মতিতেই এই বিচার সালিশ হচ্ছে।

তবে আহত হল সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসে চা পানের দাওয়াত করেছে আমাকে। এর বেশি আমি জানি না। 

আহত হল সুপার জহিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার আসন বিন্যাস করার কথা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী। কিন্তু সে নিয়ম না মেনে দাঁতমন্ডল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া দাখিল পরীক্ষার্থী শেখ তানভিরের ইচ্ছা অনুযায়ী আসন বিন্যাস করে বাংলা ১ম পত্র, ২য় পত্র ও ইংরেজি ১ম পত্রের পরীক্ষা নেন। পরে ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষার আগের আসন বিন্যাসের অনিয়মটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দুজন প্রতিনিধির দৃষ্টিতে আসলে শনিবার নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় আসন পুনঃবিন্যাস করা হয়। 

বিষয়টি জানতে পেরে পরীক্ষার্থী তানভির মিয়াসহ ৬/৭ জন শনিবার রাত ৮টার দিকে দাঁতমন্ডল গ্রামে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীসহ হল সুপার জহিরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। 

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজহারুল ইসলাম ভূইয়া জানান, হল সুপার ও পরীক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। হামলার ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে আমরা ব্যবস্থা নেব। 

বিচার সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করতে চাচ্ছেন।

নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সুপার ও পরীক্ষার্থীদের উপর হামলার পর আমরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। এ বিষয়ে মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×